কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত চর্মরোগ ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (পক্স জাতীয়) রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে এ রোগের প্রতিষেধক ও ভ্যাকসিন না থাকায় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে চরম আতঙ্কিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে খামারি ও পশুপালনকারীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রথমে গরুর চামড়ার উপরি অংশে টিউমার জাতীয় ও বসন্তের মতো গুটি গুটি উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর দু-একদিনের মধ্যেই গরুর শরীরজুড়ে গুটি গুটি হয়ে ঘা এ পরিণত হয়। এ সময় শরীরে ১০৪-১০৬ ডিগ্রী তাপমাত্রার জ্বর দেখা দেয় এবং গরু খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। অনেক সময় গরুর বুকের নিচে পানি জমে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ক্ষতস্থান পঁচে গিয়ে সেখান থেকে মাংস খুলে খুলে পড়ে। সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা কিংবা রোগের লক্ষণ না জানার কারণে উপজেলাজুড়ে গত এক মাসে কয়েক শতাধিক গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
খামারিরা জানায়, এ রোগটি তাদের কাছে একেবারেই নতুন। প্রথমে গরুর শরীরে বিভিন্ন স্থানে গুটি গুটি হয়ে ফুলে যায়। পরে গুটিগুলোতে ইনফেকশন হয়ে দগদগে ঘা সৃষ্টি হয়। ক্ষতস্থান থেকে চামড়া ও মাংস পঁচে যায়। শরীরে উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বর ও ব্যথা থাকার কারণে গরু ওই সময় খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং গরু দুর্বল হয়ে পড়ে। আক্রান্ত গরু দুর্বল হয়ে অনেক সময় মারাও যায়।
রাজারহাট উপজেলার পাঠক পাড়া গ্রামের গরু পালনকারী মো. ছকবুল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই গরুর শরীরে বিভিন্ন স্থান ফুলে উঠা শুরু করে। এরপর গরু খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। স্থানীয় পশু চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।
একই গ্রামের গরু পালনকারী আলহাজ্ব মো. ইব্রাহীম বলেন, গত কয়েকদিন আগে তার ১টি গরুর গায়ে গুটি বসন্তের মতো গুটি বের হয়। এ বিষয়টি রাজারহাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে জানালে অফিস থেকে কেউ গরু দেখতে আসেনি। পরে স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে গরু চিকিৎসা করাচ্ছি। এতে প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখনো গরুর রোগ ভাল হয়নি। চিকিৎসক বলছে আক্রান্ত গরু ভাল হতে অনেক সময় লাগবে।
আরও পড়ুন: পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ৩০
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জোবায়দুল কবির জানান, ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগটি মশা বাহিত ভাইরাস জনিত রোগ। এই রোগের কোনো ভ্যাকসিন নেই। সাধারণ চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তদারকি করা হচ্ছে। আক্রান্ত পশুর যত্ন ও খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ রোগটি যেন অন্য কোন পশুর মাঝে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য আক্রান্ত গরুকে মশারি দিয়ে রাখতে হবে। আতঙ্কিত বা ভয়ের কোন কারণ নেই এ রোগটি মানুষের হয়না এবং এ রোগে গরু মারা যায় না। ইতিমধ্যে লাইভস্টক রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর প্রতিষেধক ভ্যাকসিন তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএএম

