ঢাকা শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৯ °সে


পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম

পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম
আহত জাহিদুল ইসলাম লিমন। ছবি: ইত্তেফাক

কথা কাটাকাটির জের ধরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে জাহিদুল ইসলাম লিমন নামে এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ফুলবাড়ীয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মান্নান।

তিনি জানান, এ ঘটনায় গত শনিবার আহত ওই শিক্ষার্থীর বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আহত লিমন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকার মফিজুল ইসলাম (৫৫) ও তার দুই ছেলে ফরহাদ (২০), ফারুক (২৫), মেয়ে সেলিনা আক্তার এবং মফিজুলের চাচাতো ভাই শামসুল হককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার কয়েকদিন আগে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আন্ধারিয়া পাড়া বাজারে ফরহাদ ও ফারুকের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে গত ২৭ মে সকাল ৯টার দিকে বার্ষিক পরীক্ষা দিতে কান্দাপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে লিমনকে হত্যার উদ্দেশে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে আসামিরা। এতে তার বাঁ হাতে দা এর কোপ লাগে। এছাড়া রডের আঘাতে তার বাঁ হাত ভেঙে যায়।

পরে স্থানীয়রা লিমনকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। লিমন সেখানেই এখনও চিকিৎসাধীন।

গত ৩০ নভেম্বর অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত কোনও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মান্নান বলেন, আসামিদের ধরতে অভিযানে গিয়েছিলাম। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বখাটেরা ওই মাদ্রাসায় বাইরের এলাকা থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ তুলে প্রায়ই মারধর করে। অন্য গ্রাম থেকে আসা ছাত্রীদের প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করে। সব বিষয়ে মাদ্রাসা সুপারের কাছে অভিযোগ করা হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। এ সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠছে বখাটেরা।

ফুলবাড়ীয়া সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ওয়াজ উদ্দিন বলেন, সরকার যেখানে শিক্ষকদের বেতন দেয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানে কেন আমাদের ছেলেমেয়েরা যেতে পারবে না। কেন তাদের সবসময় এভাবে হয়রানি করা হবে? আমরা মাদ্রাসা সুপার ও পরিচালনা কমিটিকে বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: অন্তরার হাত ধরে বাংলাদেশে এলো চতুর্থ স্বর্ণপদক

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, বখাটেদের উৎপাতে অনেক শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছে এটা ঠিক। আমি বিষয়টি মাদ্রাসা কমিটির সভাপতিকে জানিয়েছি। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হচ্ছে না কেন?-এমন প্রশ্নের কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি তিনি।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন