যশোরের কেশবপুর উপজেলার দত্তনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। যৌন হয়রানীর শিকার পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রীর মা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যখন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন তখন প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান ওই মেয়েকে পানি খাওয়ানোসহ বিভিন্ন কাজের অজুহাতে অফিস রুমে ডেকে পাঠান। দূর থেকে তার কাজের আবদার মিটাতে গেলে ধমক দিয়ে তাকে কাছে নিয়ে যৌন হয়রানী করে থাকেন। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মেয়েটিকে যৌন হয়রানি করায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তার মা ও নানাকে ঘটনাটি জানাতে বাধ্য হয়। সোমবার ওই ছাত্রী তার মা ও নানার সঙ্গে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিতভাবে জানায়।
ওই ছাত্রী তার আরও ৪/৫ জন সহপাঠীর নাম উল্লেখ করে জানায়, প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান পর্যায়ক্রমে তার সহপাঠীদেরও বিভিন্ন অজুহাতে ডেকে পাঠান। তাদেরও যৌন হয়রানির চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে তাদেরকে ওই স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান ভয় দেখান। বিষয়টি তাদের অন্য শিক্ষকরা জানলেও হয়রানির ভয়ে তারা মুখ খুলতে সাহস পান না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল জব্বার সরদার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমানকে বিদ্যালয়ে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তদন্ত শেষে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টাসহ শ্লীলতাহানির বিষয়ে সত্যতা পাওয়ায় হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২৪ বছর অত্র বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। ইতোপূর্বে কেউ আমার বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ করেনি। একটি কুচক্রী মহল আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমন অভিযোগ করেছেন।
যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম জানান, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টাসহ শ্লীলতাহানি চেষ্টা করায় শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। তাকে স্থায়ী বরখাস্তের জন্য খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালকের নিকট প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ

