নারীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছেন কামরুন্নেসা মিরা। একেকটি করে ৭৬টি বাচ্চাকে উদ্ধার করেছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে। তার এই সাহসী অভিযানগুলোর কথা শুনলে গা শিউরে উঠবে যে কারো। নিজ উদ্যোগে নিজের খরচে এভাবে বাচ্চাদের উদ্ধার করে জায়গা দিয়েছেন নিজের প্রতিষ্ঠান জাগরণ পাঠশালায় যা রাজশাহীতে অবস্থিত।
২০১৭ সালে সর্ব প্রথম তিনি একটি বাচ্চাকে উদ্ধার করেন, যার মা মারা যাওয়ার পর বাবা নতুন বিয়ে করেন। সেই সত্ মায়ের ভাইয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন সত্ মা। এমনকি তার বাবাও জোর করেন এই কাজে। এই মেয়েটিকে বাঁচিয়ে শুরু হয় মিরার যুদ্ধ। এরপর ঢাকার কচুক্ষেত থেকে তিনি একটা মেয়েকে উদ্ধার করেন, যাকে খুব খারাপ অবস্থায় পান মিরা। আট বছর বয়সি সেই মেয়েকে ঝিনাইদহ থেকে এনে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এই মেয়েকে উদ্ধার করে এভাবে বাচ্চাদের রাখার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা করার কথা ভাবেন মিরা। এই ধরনের বহু ঘটনা রয়েছে তার জীবনে। ভাটারায় সাত বছর বয়সি এক মেয়ে তার বাবার কাছে ধর্ষণের শিকার হতে থাকে, যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না তার মাও। এই মেয়েকে বাঁচিয়ে আনেন মিরা।
রাজশাহী থেকে একসঙ্গে আটটি বাচ্চা কিনে আনেন মিরা। মাঝে মাঝে তিনি মাদকাসক্ত অনেককে কিনে আনেন তার পাঠশালায়। রাজশাহীর এক পতিতালয় থেকে তিনি এক মহিলার কাছ থেকে ১৬টি বাচ্চা নিয়ে আসেন। এই সব বাচ্চা তাদের পরিচয়ে বড়ো হচ্ছে, মৌলিক চাহিদাগুলো সব পূরণ করেন তিনি। এই উদ্ধারকাজ করতে গিয়ে অনেক ধরনের হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন মিরা। এমনকি জীবনের ঝুঁকিও নিতে হয়েছে তাকে।
আরও পড়ুন: এবার আর্মি মেজরের স্ত্রী মিথিলা!
মিরার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন অল ফর ওয়ান সংগঠন ২০১৮ সালে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড জেতে। তিনি গত বছর জেতেন প্রিন্সেস ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড।
এই কাজগুলো করতে তার অনেক বেগ পেতে হয়েছে। খরচ হয়েছে অনেক টাকা। এই ব্যাপারে তিনি পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন বাবা ও মায়ের। এখনো তিনি যখন যেখানে এমন বাচ্চার সন্ধান পান, সেখানে চলে যান। পরিচিতজনেরাও তাকে খোঁজ দেন এমন বাচ্চার। এই বাচ্চাদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই রয়েছে। তিনি এখান থেকে যারা বাচ্চা নিতে চায় তাদেরও সুযোগ করে দিতে চান।
তার জাগরণ পাঠশালায় পড়ালেখার পাশাপাশি জীবনযাপন, আচার-আচরণ, ব্যবহার, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, হস্তশিল্প, কম্পিউটার, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে চান তিনি। তিনি কাজ করতে চান শিশু পাচার রোধে এবং বাল্যবিবাহ রোধ করতে।
ইত্তেফাক-বিএএফ

