পঞ্চগড় ১: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষে

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:৩৬

পঞ্চগড়-১ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্য দলের ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ মজাহারুল হক প্রধান ও বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।

বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত আটোয়ারী ও তেতুলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-১ (সদর) আসনটি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির হাতছাড়া হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোঃ মজাহারুল হক প্রধান বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকারকে হারিয়ে জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগ এ আসনটি জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ছেড়ে দেয়। জাসদের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক প্রধান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু সালেককে পরাজিত করে জয়লাভ করেন।

এবার মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেন দলীয় প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধানকে। আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবারও তিনি জয়ী হবেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধান বলেন, 'পঞ্চগড়ে বাইপাস নির্মাণ, পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণ, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, বিমান বন্দর স্থাপনসহ পঞ্চগড়ের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করবো। আমি মানুষের সেবা করতে চাই। মানুষকে সেবা দিতে চাই। পঞ্চগড়কে আমি আধুনিক পঞ্চগড় হিসেবে উপহার দিবো। শেখ হাসিনা শুধু পঞ্চগড়বাসীর জন্য নয় গোটা দেশের মানুষের জন্য ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাসহ যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন তার জন্যই ভোটাররা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করবেন।'

১৯৯১ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক স্পিকার মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজ নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সাালের নির্বাচীত হন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ব্যারিষ্টার মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিরউদ্দিন সরকারের পুত্র কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির সানি দলীয় মনোনয়ন পান। হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে নওশাদ জমির নেতাকর্মীদের নিয়ে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। তাকে জয়ী করতে বাবা জমিরউদ্দিন সরকারও মাঠে কাজ করছেন।

পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির সানি বলেন, 'এই নির্বাচনে বিএনপির একজনই প্রার্থী তিনি হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। আমরা সবাই বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থী হিসেবে কাজ করছি। ৭৯, ৯১, ৯৬, ২০০১ সালে বিএনপি এ আসনটিতে বিজয়ী হয়। বরাবরই এ আসনটি বিএনপির ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের বিতর্কিত একটি নির্বাচনে বিএনপি এ আসনটি পায়নি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে পঞ্চগড়ে যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ছিল তা গত ১০ বছরে উন্নয়ন সম্পুর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য মানুষ ধানের শীষেই ভোট দিবে। কারণ মানুষ জানে বিএনপি যে উন্নয়ন করতে পারে তা অন্য কোন দল করতে পারবে না। পঞ্চগড়ের রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, সরকারি বেসরকারি অবকাঠামো যা কিছু দেখছেন সবকিছুই বিএনপির সময়ের। এজন্যই আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে ভোট বিপ্লব হবে এবং আসনটি আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারবো। আমরা জানি লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই তবুও গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য আমাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। তবে যে যাই করুক ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির পক্ষেই ভোট বিপ্লব হবে।'
 
এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আল রাশেদ প্রধান (হুক্কা), জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু সালেক (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ (হাতপাখা), জাকের পার্টি যুব স্বেচ্ছাসেবক ফ্রন্ট্রের পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুমন রানা (গোলাপ ফুল) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির হাবিবুর রহমান (আম) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আরও পড়ুনঃ জামায়াত থাকবে জানলে ঐক্যফ্রন্টে আসতাম না: ড. কামাল

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, তিনটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ঊনআশি হাজার দুইশ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ঊননব্বই হাজার নয়শ চৌদ্দ জন, মহিলা ভোটার এক লাখ ঊননব্বই হাজার দুইশ ঊননব্বই জন। এ আসনে নতুন ভোটারের সংখ্যা পঞ্চাশ হাজার দুইশ আটাশি জন। এ আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৫টি ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭৩৭টি।

ইত্তেফাক/অনি/নূহু