অপহরণের পর লাশ ফেরত দিলো অস্ত্রধারী রোহিঙ্গারা

আপডেট : ০১ মে ২০২০, ১৭:২০

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র ডাকাত দলের হাতে অপহৃত তিনজনের মধ্যে একজনের গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের হাতে নিহত ওই ব্যক্তির নাম আক্তার উল্লাহ (২৫)। তিনি মিনা বাজারের মৌলভী কাশিমের ছেলে।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী, হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মশিউর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় জনসাধারণের একটি দল ঊনছিপ্রাং রইক্ষ্যং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পশ্চিমে শীলের ঝিরি উঠনি পাহাড় হতে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত আক্তার পেশায় রাজমিস্ত্রী। তিনি ফকিরের ঘোনা এলাকায় শসা ক্ষেত দেখতে গিয়েই স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাত দলের হাতে অপহৃত হয়ে খুন হন। 

উল্লেখ্য, ২৯ এপ্রিল রাতে তারাবী চলাকালীন হোয়াইক্যং পশ্চিম মিনা বাজার শামসু ফকিরের ঘোনায় ক্ষেত ও ধান চাষাবাদ পাহারা দেওয়ার সময় অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা ডাকাত দলের সদস্যরা স্থানীয় মৌলভী আবুল কাশেমের ছেলে আখতার উল্লাহ (২৫), মুহাম্মদের ছেলে মো. শাহেদ (২৬) ও মৃত মো. কাশেমের ছেলে মুহাম্মদ ইদ্রিসকে (৩০) অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে যায়। 

আরও পড়ুন: করোনা নয় নিউমোথোরাক্সে মারা যান রাজশাহীর সেই বৃদ্ধ

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পরদিন স্বজন, এলাকাবাসী ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা পাহাড়ে তল্লাশি চালায়। সকালে স্বজনেরা অপহৃতদের সন্ধান করতে পাহাড়ে গিয়ে আক্তারের গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে সবাইকে অবহিত করে। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় প্রত্যক্ষদর্শীরা অদূরে সুউচ্চ ও গভীর টঙ্গির পাহাড়ে কিছু মানুষের অবস্থান ও আনাগোনা প্রত্যক্ষ করেছেন। এখনো পাহাড়ি স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাত দলের হাতে মো. শাহেদ ও মুহাম্মদ ইদ্রিস (৩০) আটক রয়েছে। তাদের ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, পাহাড়ে অবস্থানকারী স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা যেভাবে স্থানীয়দের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং খুন করছে তাতে স্থানীয়রা আতঙ্কিত। অবিলম্বে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানান তিনি। 

ইত্তেফাক/এসি