নাটোর সদরের দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম হাগুরিয়ায় জুমার নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমামকে মারধর করার ঘটনায় মসজিদের মোয়াজ্জিন আব্দুস সামাদ বাদি হয়ে শাহীন নামে এক যুবককে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নাটোর থানার এসআই আনহার ইসলাম বাদি হয়ে ২৫-২৬ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। দুটি পৃথক মামলায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, একই মহল্লার শাহীন, আহমেদ, মহব্বত, আজিম, আরিফ ও মজনু। এছাড়া আটক ইউপি সদস্য নাদিরুজ্জামান নাদিমসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজে পূর্ব হাগুরিয়া মসজিদের ইমাম সরকারি নীতি অনুযায়ী ১২ জন মুসল্লি নিয়ে মসজিদের দরজা বন্ধ করে জুমার নামাজ আদায় করেন। এতে স্থানীয় যুবক শাহীনসহ আরও কয়েকজন জুমার নামাজে অংশ নিতে ব্যর্থ হয়। নামাজ শেষে শাহীন মসজিদের ইমামের ওপর চড়াও হলে মুসুল্লিরা তাকে মারপিট করে। এ ঘটনায় শাহিন পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়রা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে এক নারী কনস্টেবল ও পুলিশ পরিদর্শকসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতরা হলেন- এসআই আনহার ইসলাম, কনস্টেবল সেকান্দার আলী ও নারী কনস্টেবল মঞ্জু।
আরও পড়ুন: টেকনাফের ওই কীটগুলো পঙ্গপাল নয়: বিশেষজ্ঞ দল
এ ঘটনায় পরে পুলিশের এসআই আনহার ইসলামের মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, কর্তব্য কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে আহমেদ. মহব্বত, আজিম, আরিফ ও মজনুকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। অপরদিকে ইমামের ওপর হামলার ঘটনায় শাহীনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নাটোর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত জানান, অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
ইত্তেফাক/এসি
