থার্ডপার্টির দখলে রাজশাহীর আম, দাম আকাশছোঁয়া

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ১৬:৩৩

রাজশাহীতে প্রতিদিনই বাড়ছে আমের দাম। ভরা মৌসুমে চাষী পর্যায়ে আমের দাম কম হলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজিতে বেড়েছে আমের দাম। করোনার অজুহাতে আকাশ ছোঁয়া আমের দাম হাঁকাচ্ছে তারা। আগের মতোই আম চাষীদের থেকে কম দামে কিনে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে আমের মুনাফা লুটছে এই থার্ডপার্টি। 

পুঠিয়ার ভাল্লুকগাছির চকপাড়া গ্রামের আমচাষী হোসেন আলী জানান, নানা জটিলতায় বাগান থেকে আম পেড়ে সরাসরি হাট-বাজারে বিক্রি করতে পারেন না তারা। প্রায় সবাই বাগান থেকে আড়তদার ও শহর থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে আম বিক্রি করেন। এসময় পরিবহন খরচের তাদের থেকে কম দামে আম কিনে বাজার বেশি দামে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, প্রতিমণে (৪০ কেজি) তাদের ছয় কেজি আম বেশি (ঢলন) দিতে হয়। ফলে কৃষকের লাভ কম, মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভই বেশি। এরাই কৃষকের আম বাজারে বিক্রি করে মুনাফা লুটছে বলেও দাবি করেন গ্রামের এই আমচাষী।

পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারের আম ব্যবসায়ী হায়াত আলী জানান, বর্তমানে বাজারে ক্ষিরসাপাত (হিমসাগর) আম চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা মণ দামে বিক্রি হচ্ছে। শেষ পর্যায়ে বলে হিমসাগর আমের দাম একটু বেশিই। এছাড়া শুক্রবার ল্যাংড়া আম দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা মণ দামে বিক্রি হচ্ছে। আর কিছু আম্রপালি আম দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা মণ দামে বিক্রি হচ্ছে। সবমিলিয়ে আমের রাজধানীতে এবার আম কিনতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

আরও পড়ুন: কুড়িয়ে নেওয়া বর্জ্য থেকে ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্ট

সরেজমিন, বছর ঘুরে রাজশাহীতে আম বেচাকেনা জমে উঠেছে। তবে আম চাষী ও সাধারণ ক্রেতাদের মুখে হাসি নেই। এতাদিন বলা হচ্ছিল, এবার করোনায় তেমন বেচাকেনা হবে না, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বাস্তবতা সেই পর্যায়ে নেই। করোনা ঝুঁকিইে চলছে আম কেনাবেচা। তবে জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে জমেছে আমের হাট। ফলে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা এবার তেমন সুবিধা করতে পারেনি। 

রাজশাহীর হাটে-মাঠে, পাড়ার গলিতে বিক্রি হচ্ছে আম। বাঁশের ঝুড়ি ও প্লাস্টিকের ক্যারেটে (খাঁচা) আম বাগান থেকে সরাসরি বাজারে যাচ্ছে। আম বাণিজ্যে পাল্টে গেছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর অঞ্চলের অর্থনীতি। প্রতিদিন বেচাকেনা হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার আম। পুঠিয়ার বানেশ্বর ও শিবগঞ্জের কানসাট এখন আম কেনাবেচায় জমজমাট। এ অঞ্চলে লাখো মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান হয়েছে আম কেনাবেচায়। গাছ থেকে আম পাড়া, পরিবহণ, ঝুঁড়ি ও প্যাকেটসহ নানা কাজ চলবে জুলাই জুড়ে। ঘুর্ণিঝড় আম্পান ও কালবৈশাখীর কারণে এবার ফলন কম হলেও দাম বেশি হওয়ায় খুশি আম ব্যবসায়ীরা। তবে মুনাফা বঞ্চিত আমচাষী ও স্বাদ বঞ্চিত সাধারণ ক্রেতারা। 

সশ্লিষ্টরা জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে বাজার থেকে বিদায় নিয়েছে গোপালভোগ, মোহনভোগ ও লক্ষণভোগ (লখনা), রাণীপছন্দ। হিমসাগর বা ক্ষিরসাপাতও শেষের পথে। চলতি সপ্তাহে বাজার দখলে নিয়েছে ল্যাংড়া। আগামী সপ্তাহেই উঠবে আম্রপালি ও ফজলি।

ইত্তেফাক/এসি