ঝিনাইগাতীতে স্লুইচ গেট ভেঙে পাউবোর কোটি টাকার সম্পত্তি বেহাত

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ২০:৪৬

নির্মাণের বছর না ঘুরতেই পাহাড়ি ঢলের পানি তোড়ে বিধ্বস্ত হয় শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মালিঝি নদীর ওপর নির্মিত স্লুইচ গেট। বর্তমানে এটি আর কৃষকের কোনো কাজেই আসছেন। সরকারি উদ্যোগ ব্যাহত হওয়ার পাশপাশি কৃষক বঞ্চিত স্লুইচ গেটের সুফল থেকে। বেদখল হয়ে যাচ্ছে পাউবোর অধিগ্রহণ করা প্রায় পাঁচ একর জমি।

হাতিবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন জানান, কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে ১৯৮৬ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড মালিঝি নদীর ঘাগড়া নয়াপাড়ায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্লুইচ গেইট নির্মাণ করে। এটি নির্মাণ করতে আশেপাশের প্রায় ৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। 

হাতিবান্ধা গ্রামের কৃষক মো.আবুল হাসেম, কামারপাড়া গ্রামের মো.রেজাউল, মো. আফছর আলী, মোক্তার হোসেন ভোট্টুসহ গ্রামবাসীরা জানায়, ওই স্লুইচ গেইটটি রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য একটি ভবণও নির্মাণ করা হয়। ভবণে একজন কর্মচারীকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্লুইচ গেইটটি নির্মাণের এক বছর যেতে না যেতেই পাহাড়ী ঢলের পানির তোরে তা বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এরপর স্লুইচ গেইটটি আর সংস্কার করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োগকৃত ওই কর্মচারী কিছুদিন অবস্থানের পর চলে যান। এরপর থেকে অধিগ্রহণকৃত জমিগুলো বেদখল হতে শুরু করে। বর্তমানে তা অন্যের দখলে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্নিমার্ণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। 

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা ও স্থানীয় কৃষকরা জানান, ওই স্লুইচ গেইটটি সংস্কার বা এখানে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এটি স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি। 

উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাইম বলেন, এখানে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের বিষয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আলোচনাও করা হয়েছে। কিন্তু আজো তা বাস্তবায়িত হয়নি। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণের জন্য কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিকল্পনা মাফিক ওই স্থানে রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হলে কৃষকের উপকার হবে। প্রায় দুই হাজার কৃষক পাঁচশ হেক্টর জমি অধিক ফলনশীল জমিতে পরিণত করা যাবে। 

শেরপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসি