মির্জাপুরে বংশাই-লৌহজং নদীতে তীব্র ভাঙন

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই-লৌহজং নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এক দিকে নদী ভাঙন ও অপরদিকে বন্যার পানি নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু পরিবার পানি বন্দি হয়ে দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ ও ফসলি জমি।

আজ রবিবার উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নদী ভাঙন ও বন্যা কবলিত অসহায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া ও ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ জানান, মির্জাপুর উপজেলার উত্তরে বংশাই ও দক্ষিনে প্রবাহিত লৌহজং নদী। পানি বৃদ্ধির ফলে বংশাই নদীর ফতেপুর, হিলড়া আদাবাড়ি, থলপাড়া, বৈন্যাতলী, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, ত্রিমোহন, বান্দরমারা, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা নদী ভাঙ্গনে কয়েক শতাধিক পরিবার দিশেহারা হয়ে পরেছেন। সরকারী ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারগুলো এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ সহায়তা পাননি। বন্যার পানি নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় আঞ্চলিক রাস্তা ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তা-ঘাট।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান এবং টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ও ব্রিজের প্রকল্প তৈরী করে বরাদ্ধ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্তণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ এলে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার দ্রুত সংস্কার করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। বরাদ্ধ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ইত্তেফাক/এমআরএম