খাল বন্ধ করে নির্মিত হচ্ছে কালনা সেতুর অ্যাপ্রোচ!

কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা
খাল বন্ধ করে নির্মিত হচ্ছে কালনা সেতুর অ্যাপ্রোচ!
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া খাল বন্ধ করে কালনা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ছবি: ইত্তেফাক

গোপালগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাটিয়াপাড়া সেচ ও পানি নিষ্কাশন খাল বন্ধ করে কালনা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়ক বিভাগ ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় মধুমতী নদীর ওপর দেশের প্রথম ৬ লেনের কালনা সেতু প্রকল্প বাস্তাবায়ন করছে। ঐ সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া খাল বন্ধ করে নির্মাণ করায় ছয় গ্রামের দুই বিলের ২ হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয়রা চরম ক্ষুব্ধ। তারা ভাটিয়াপাড়া খালের পানি সরবরাহ ঠিক রেখে কালনা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: খাদ্য নিরাপত্তায় টেকসই কৃষি যান্ত্রিকীকরণে করণীয়

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ঐ খাল বন্ধ না করে খালের ওপর সেতু নির্মাণ করে খালের পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে কালনা সেতুর অ্যাপ্রোচ নির্মাণের জন্য কালনা সেতু বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে। ঐ চিঠিতে বলা হয়েছে, কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়ায় পাউবোর সেচ ও নিষ্কাশন খালটি একদিকে ধূসর ও বিলপবনের বিল এবং অন্যদিকে মধুমতী নদীর সঙ্গে একটি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর মাধ্যমে সংযুক্ত রয়েছে। বর্তমানে ‘পশ্চিমাঞ্চলীয় পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়া-চরভাটপাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ উপপ্রকল্পের পুনর্বাসন কর্মসূচির অধীনে খালটি পুনর্খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণ না হলে খাল খননের উদ্যোগ সফল হবে না। ব্রিজ নির্মাণ করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা হলে খালের উভয় পাড়ে ৩ হাজার হেক্টর আবাদি জমির কৃষিপণ্য উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া ধূসর ও বিলপবনের বিলের পানি নির্গমনসহ এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি নান্টু শরীফ বলেন, এ খালের পানি দিয়ে ভাটিয়াপাড়া, বরাশুর, ধূসর, বুধপাশা, রাতইল ও পোনা গ্রামের ধূসর বিল ও বিলপবনের বিলের চাষাবাদ ও সেচ কাজ করে কৃষক। এ খাল দিয়ে বিলের পানি মধুমতি নদীতে ওঠা নামা করে। এখন এ খাল বন্ধ করে কালনা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ করা হচ্ছে। বুধপাশা গ্রামের বেলাল হোসেন বলেন, ‘খাল বন্ধ করে সড়ক নির্মাণের কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। খালের তীরবর্তী বরাশুর গ্রামের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম (৬০) বলেন, ‘খাল ভরাট করে সড়ক নির্মাণ ও খালের মধ্যে বালুর চাতাল করে সেখানে বালু ফেলার পর থেকে একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের বাড়িঘরে পানি উঠে যায়।

আরও পড়ুন: শুকনা বীজতলা পদ্ধতিতে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকের স্বস্তি

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম কনস্ট্রাকশনের মহাসড়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জোনায়েদ রাহবার বলেন, ‘বিষয়টি সম্পূর্ণ সওজ ও পাউবোর ওপর নির্ভর করছে। আমরা তো ঠিকাদার। আমাদের যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হবে, আমরা সেভাবে কাজ করব। তবে দুই বিভাগের বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গেছে। আমরাও বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।’ নির্মাণাধীন অ্যাপ্রোচ সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিপিএম (সওজ) প্রকৌশলী সৈয়দ গিয়াসউদ্দিন জানান, মূল ডিজাইনে ওখানে কোনো ব্রিজ বা কালভার্ট নেই। খালটি অনেক আগে থেকে বন্ধ ছিল। কাজ বন্ধ রাখার ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন। কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘জনগণের দাবিতে ভাটিয়াপাড়া খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। বিষয়টি দুই বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x