মহেশখালীতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: মারা গেলেন বেলুন বিক্রেতাও  

মহেশখালীতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: মারা গেলেন বেলুন বিক্রেতাও  
মহেশখালীর মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসুক জনতার ভিড়। ছবি: ইত্তেফাক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে বেলুন ফোলাতে ব্যবহার করা গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। বিস্ফোরণে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী দুই শিশুর পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলুন বিক্রেতাও মারা গেছেন। এতে আহত অপর ১৩ জনের মধ্যে অধিকাংশের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন মাতারবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মহেশখালীর মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

নিহত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা হলো, মাতারবাড়ির দক্ষিণ মিয়াজির পাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আহমদ খান এহসান (১২), ইউনিয়নের বলিরপাড়ার আজিজুল রহমানের ছেলে এরশাদুল রহমান (১০) ও বেলুন বিক্রেতা চকরিয়ার হারবাংয়ের জসিম উদ্দিন (৩৮)।

আহতদের মধ্যে, মাতারবাড়ির পাশের শাপলাপুর ইউনিয়নের জেমঘাট এলাকার কবির আহমদের ছেলে নুরী (১৬), একই ইউনিয়নের সাইটমারা এলাকার নুরুল হকের ছেলে আক্কাস (১৮), মাতারবাড়ির উত্তর রাজঘাট এলাকার কাইছারুল ইসলামের ছেলে জিহাদুল ইসলাম আবদুল্লাহ (১২), নলবিলার নুর মোহাম্মদের ছেলে মারুফ (১২), সিকদার পাড়ার ফরিদুল আলমের ছেলে সাদেকুল ইসলাম রাহাত (১৩), মগডেইলের আবদুুল মান্নানের ছেলে মো. নুরী (১৩) সিকদারপাড়ার আবদুল মোনাফের ছেলে মো. তুহিন (১৪) ও বদন আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন (১২)'র নাম পাওয়া গেছে। আহত সবাইকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেক শিশুর পা এবং শরীরের বিভিন্নাংশ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। দুটি পা হারিয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেলুন বিক্রেতা জসিম। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে তিনি মারাযান। বাকিরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: বিদ্যুতের তার ছিড়ে আগুন, তিনজনের মৃত্যু

চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, মাতারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন আজিজিয়া মাদ্রাসার দুই দিন ব্যাপী সভার প্রথম দিন ছিল শুক্রবার। মাহফিল উপলক্ষে স্কুলের মাঠে মেলার মতো দোকানপাট বসে। ভোগ্য ও ব্যবহার্য সামগ্রীর পাশাপাশি খেলনা বিক্রির দোকানও বসানো হয় এতে। সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বেলুন ফুলিয়ে শিশুদের কাছে বিক্রি করছিল এক বিক্রেতা। হঠাৎ বিকট শব্দে ঐ গ্যাস সিলিন্ডারটি বিষ্ফোরিত হয় বলে স্থানীয়রা জানান। বিদ্যালয়ের মাঠে শিশুসহ নানা শ্রেণির-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল। ভয়াবহ বিস্ফোরণে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে আহতদের মধ্যে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ২ শিশুর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়া আহতদের মধ্যে সন্ধ্যার দিকে বেলুন বিক্রেতা জসিমও মারা যান। আহতদের মধ্যে আরও কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালে তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনরা।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‌‘স্থানীয় সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকের নির্দেশে হতাহত সকল পরিবারে নগদ ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে দাফন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খবর রাখা হচ্ছে সার্বক্ষণিক। এখনো ঘটনাস্থলে একটি মাথা, দুটি পা ও একটি বিচ্ছিন্ন হাত পড়ে রয়েছে। তবে এগুলো কার তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আমার এলাকার দু'শিশুর মরদেহ এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। ধারণা করছি ক্ষত-বিক্ষত অংশগুলো বেলুন বিক্রেতার শিশু সন্তানের।’

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় পুলিশের ওপর হামলা, পুরুষ শূন্য এলাকা

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হাই বলেন, ‘মাতারবাড়ী স্কুল মাঠে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা ও সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি দেখভাল করছে। এখনো পর্যন্ত দু'শিশু ও আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বেলুন ফোলানোর গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপরও বিস্ফোরণের সঠিক কারণ বের করতে কাজ করছে পুলিশ। গত রাতে পৃথক দুর্ঘটনায় আরও দুইজনের মৃৃত্যু হয়।’

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x