অব্যাহত হিমেল বাতাসের সঙ্গে দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা না পাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরসহ দেশের উত্তরের জনজীবন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। সন্ধ্যার পরপরই শহর এক প্রকার জনশূন্য হয়ে পড়ছে। এতে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ। আর নিম্ন-আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন বিপাকে। অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এদিকে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে শীতজনিত রোগ। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়া, হাঁপানি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে।
আরও পড়ুন: তীব্র শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তিনি আরো জানান, আকাশে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বেড়ে যাওয়ায় ওপরে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই সূর্যের দেখা মিলছে না। দিনাজপুরের সিভিল সার্জান ডা. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে যে সংখ্যক রোগী ভর্তি রয়েছে তার মধ্যে ১০ শতাংশ রোগীই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত।
বোরো বীজতলা নিয়ে বিপাকে কৃষক
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলা তৈরি ও রোপণকৃত চারা টিকিয়ে রাখতে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বীজতলা টিকিয়ে রাখতে সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। উপজেলার পুরাইকাটী বাকের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, শীতের কারণে ধানের চারা কিছুটা লাল হচ্ছে। পলিথিন দিয়ে ঢেকে, পানি বদলসহ নানারকম পরিচর্যা করে বীজতলা টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাজারহাটে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে কৃষকদের বীজতলা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিদিন পানি বদল করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকে সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/কেকে

