ঢাকা সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৯ °সে


মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, নগর জুড়ে চাঞ্চল্য

মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, নগর জুড়ে চাঞ্চল্য
মেয়র আরিফুলের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে প্রতীকী মৃতদেহ।

সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ করে গতকাল মঙ্গলবার হঠাৎ একটি পক্ষ মানবন্ধন করে। এতে নগর জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রদীপ্ত সিলেটবাসীর ব্যনারে এই মানববন্ধন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আয়োজন করেন আমার এমপি ডটকমের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান সুশান্ত দাস গুপ্ত।

এদিকে মানববন্ধনে করা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগর ভবনে প্রেস ব্রিফিং করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধূরী। প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়র আরিফ বলেন, ‘সঞ্জয় রায় নামের এই ব্যক্তি সিটি কর্পোরেশনের তালিকাভুক্ত কোন ঠিকাদার নন। নগর ভবন নির্মাণের কাজ পায় মাহবুব ব্রাদার্স। কাজ শেষ হওয়ার পর তাদের সঙ্গে সিসিক কর্তৃপক্ষের সকল লেনদেন হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মানববন্ধনের আয়োজক সুশান্ত দাস গুপ্ত নিজেও সিলেট নগরীর বাসিন্দা নন। এমনকি তিনি সিলেট জেলারও নন। শুধুমাত্র সিলেট নগরীতে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্থ করতে একটি মহল উঠে-পড়ে লেগেছে। নগরীর উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতেই তারা এসব করছে। এসব মিথ্যা অভিযোগে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।’

কি অভিযোগ? এর আগে সকালে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে প্রদীপ্ত সিলেটের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে কাফনের কাপড় ও ফুলের মালা পড়ে প্রতীকী আত্মাহুতি করেন দুর্নীতির শিকার ব্যবসায়ী সঞ্জয় রায়। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে উক্ত মানববন্ধন ও প্রতীকী আত্মাহুতি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে নিজেকে দুর্নীতির শিকার দাবি করে ব্যবসায়ী সঞ্জয় রায় বলেন, ‘২০১৪ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনে নগর ভবন নির্মাণের জন্য একটি ওয়ার্ক অর্ডার হয়। এ ওয়ার্ক অর্ডারটি ষোলো কোটি আট লাখ টাকা মূল্যে মাহবুব ব্রার্দাস প্রাইভেট লিমিটেডকে প্রদান করা হয়। মাহবুব ব্রাদার্স কাজটি সম্পাদনের জন্য ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর সম্পাত এন্টারপ্রাইজ এর প্রোপাইটর আমি সঞ্জয় রায় এর সঙ্গে চুক্তি করে।’

তিনি জানান, ‘কাজ শুরুর পর নগর ভবন থেকে মাহবুব ব্রার্দাসকে প্রাইভেট লিমিটেডের নামে বিল ইস্যু করা হত এবং মাহাবুব ব্রাদার্স অফিস থেকে তিনি নিয়মিত চেক গ্রহণ করে আমার মনোনীত একাউন্টে লেনদেন করতেন। মোট কাজের আনুমানিক ৫ শতাংশ কাজ বাকি থাকাবস্থায় সঞ্জয় রায়ের লিভার সিরোসিস রোগ ধরা পড়ে। এ সময় তিনি জরুরিভাবে ভারতে চিকিৎসা নিতে চলে যান। সে সময় মেয়র আরিফ মূল ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্সকে জিম্মি করে দুই কোটি ছেষট্টি লাখ টাকার চূড়ান্ত বিল সঞ্জয় রায়ের অগোচরে রেখে আত্মসাৎ করেন।’

সঞ্জয় রায় বলেন, ‘এক পর্যায়ে ২ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর কাজের বিপরীতে সিটি করপোরেশনে রক্ষিত জামানতের এক কোটি আটান্ন লাখ টাকা মেয়র আরিফ মাহাবুব ব্রাদার্সকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সহযোগী হোটেল ক্যাপিটালের পরিচালক তোফায়েল খানের ব্যাংক একাউন্টে নিয়ে আসেন। ওই সময় মেয়র আরিফ মাহবুব ব্রাদার্সকে এই বলে আশ্বস্ত করেন যে, এই জামানতের টাকা মেয়র নিজের তত্ত্বাবধানে আমাকে প্রদান করবে।’

আরও পড়ুনঃ দায়িত্বে অবহেলায় ঢাকা নৌ বন্দরের যুগ্ম সচিব প্রত্যাহার

সঞ্জয় রায় আরো বলেন, জামানতের এই টাকার চেক তোফায়েল খানের একাউন্টে আনার সময় ১৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছয়ফুল আমীন বাকের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কিছু দিন পর আমি জানতে পারি চূড়ান্ত বিলের ন্যায় আমার জামানতের টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে। তখন আমি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে গিয়ে আমার টাকা দাবি করলে মেয়র আরিফ আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখান। শুধু তাই নয়, আমাকে তার বাসায় আটকে রেখে আমার বাসা থেকে একটি ব্যাংক চেক আনিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়।’

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন