ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৭
১৮ °সে

মুক্তিযুদ্ধে শহিদ শামসুল আল ঝাটু এখনো পাননি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

মুক্তিযুদ্ধে শহিদ শামসুল আল ঝাটু এখনো পাননি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
মুক্তিযুদ্ধে শামসুল আলম ঝাটুকে শহিদের স্বীকৃতি এবং পরিবারের পুনর্বাসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন শহিদের পরিবার। ছবি: ইত্তেফাক

মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহীতে প্রথম শহিদ মুক্তিযোদ্ধা মহানগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়ার শামসুল আলম ঝাটু। তিনি এখনো পাননি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। মহান যুদ্ধে শহিদ হওয়া এই মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত দেখিয়ে সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে, অভিযোগ পরিবারের। বর্তমানে পরিবারের বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন শহিদ মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম ঝাটুর পরিবার।

বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ঝাটুর পুত্র মহব্বত। লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান প্রতিবেশী মামুন-অর-রশিদ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যানের সামনে রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে ব্যারিকেড দিতে গিয়ে পাক বাহিনীর গুলিতে নিহত হন শামসুল আলম ঝাটু। সেদিন মহব্বত ছিলেন মাতৃগর্ভে ভূমিষ্ঠ হবার অপেক্ষায়। জন্মের পর নানা-নানীর কাছে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। আর্থিক অনাটনের সংসারে লেখাপড়ার পরিবর্তে রোজগারের তাগিদে বাদাম বিক্রি ও দিনমজুরের কাজ করে জীবন যাপন করে আসছেন তারা।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ৩১ মার্চ রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল হক খান তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রতিবেদন দেন যে, শামসুল আলম ঝাটু একজন শহিদ মুক্তিযোদ্ধা। সে হিসেবে মর্যাদা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়। তাছাড়া ২০০১ সালে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টের ১৫ সদস্যের একটি সেনাদল তার বাবার কবর সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং তার বাবার স্বপক্ষে প্রতিবেদন প্রদান করেন। এর আগে ১৯৭২-৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহিদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের দুই হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। সেই চেক তারা পেয়েছিলেন।

আরো পড়ুন: কর্মবিরতিতে অচল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

২০০৬ সালের জুলাই মাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাদের একটি সনদপত্র প্রদান করা হয়। যেখানে তার বাবাকে জীবিত দেখানো হয়েছে। যার গেজেট নং-২১৫। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজও তার বাবাকে শহীদের মর্যাদা ও শহিদের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়নি। তার বাবার কবরটিও সংরক্ষণ করা হয়নি। তার রেখে যাওয়া সামান্য সম্পত্তিও আত্মীয়-স্বজনরা জবরদখল করেছেন।

বর্তমানে এ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ভাড়া বাসায় খেয়ে না খেয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার দাবি, মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম ঝাটুকে শহিদের মর্যাদা প্রদান এবং তার পরিবারকে পুনর্বাসন করা হোক।

ইত্তেফাক/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন