ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
২৬ °সে


নানা সমস্যায় জর্জরিত রৌমারী স্থলবন্দর

নানা সমস্যায় জর্জরিত রৌমারী স্থলবন্দর
প্রকাশ্যে খোলা আকাশের নিচে মেশিনে পাথর ভাঙ্গা হচ্ছে। এতে ধুলো ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। ছবি: ইত্তেফাক

ফুলবাড়ি, চরফুলবাড়ি, নতুনবন্দর, চরনতুনবন্দর, চাঁন্দারচরসহ ভারতীয় সীমান্তঘেষা এলাকাগুলোর মানুষ নানা সমস্যায় রয়েছেন। এখানে খোলা আকাশের নিচে মেশিনে পাথর ভাঙ্গা হচ্ছে।

আর এই পাথরের গুড়ার ও ধুলাবালিতে শিশু, বৃদ্ধ, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, ইমিগ্রেশনের যাত্রী ও ওই এলাকায় বসবাসরত মানুষ সর্দিকাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রৌমারী স্থলবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, স্থলবন্দরের আশপাশের ঘরবাড়ি, গাছের পাতায় ধুলাবালির স্তূপ পড়েছে। নির্ধারিত স্থান না থাকায় ব্যবসায়ীরা খোলা আকাশের নিচে যত্রতত্র পাথর ভাঙ্গার ক্রাশ মেশিন স্থাপন করেছে। রাস্তার পাশে গাড়িতে আপলোড-আনলোডের কাজ চলছে। কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন পূর্বপাড় রৌমারী উপজেলায় রৌমারী শুল্ক (স্থল) বন্দরটি অবস্থিত।

স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিক লালমিয়া, হাবিল, ফুলচাল, সাইদুর বলেন, আমরা ক্রাশ মেশিনে সারাদিন পাথর ভাঙ্গা কাজ করি। পাথরের গুড়া ধুলাবালিতে চারপাশে অন্ধকার হয়ে যায়। খাবার, পানি, নাকমুখ দিয়ে ধুলাবালি প্রবেশ করে সারা বছরই আসরা সর্দিকাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ি।

ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে গার্মেন্টস তুলা, সিমেন্ট, বিভিন্ন প্লাস্টিক আসবাব পত্র রফতানি হচ্ছে। আমদানি হচ্ছে পাথর, কয়লা ও মাঝে মধ্যে আদা। প্রতিদিন রৌমারী শুল্ক (স্থল) বন্দর থেকে মালামাল পরিবহন করে নেওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে। রাস্তা ঘাটের প্রস্থ কম ও খালখন্দ থাকায় মালামাল পরিবহন খরচ বেশি পড়ে লাভ কম হয়।

আরো পড়ুন: বিশ্বব্যাপী প্রশংসায় ভাসছেন সেই কিশোর, আরও ডিম কেনার তহবিল গঠন

রৌমারী শুল্ক (স্থলবন্দর) এলসি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, স্থলবন্দরে বড় সমস্যা মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক থাকে না। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সমস্যা হয়। শুল্ক স্থলবন্দরে ক্রাশিং মেশিনের পাথরের গুড়া ও ধুলাবালি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পুর্নাঙ্গ স্থলবন্দর হলে নির্দিষ্ট স্থানে পাথর ক্রাশিং মেশিন বসানো হবে। এত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ ধুলাবালি রোধ হবে।

রৌমারী শুল্ক (স্থলবন্দর) এলসি এসোসিয়েশন সভাপতি শহিদুল ইসলাম শালু বলেন, এ স্থলবন্দর নতুন পুর্নাঙ্গ স্থলবন্দর হলে আমরা বাউন্ডারির ওয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা করবো। বর্তমানে ধুলাবালি প্রতিরোধে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে। সরকারে রৌমারী স্থলবন্দরকে পুর্নাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপান্তরিত করলে এলাকার হাজার হাজার দরিদ্র শ্রমিকদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা হবে।

রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোমিনুল ইসলাম হুমায়ুন বলেন, স্থলবন্দরের কর্মরত শ্রমিকরা মুখে মাক্স ব্যবহার না করায় নাকমুখ দিয়ে পাথরের গুড়া ও ধুলাবালি প্রবেশ করে সর্দিকাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন