মিরপুরে বখাটেদের অত্যাচারে আত্মহত্যা করলো স্কুলছাত্রী

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ১৮:২৪

কুষ্টিয়ার মিরপুরে বখাটেদের অত্যাচারের পর বাড়িতে ফিরে চিরকুট লিখে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগ যৌন হয়রানী করার কারণে লজ্জায় আত্মহত্যা করছে সে। এ ঘটনায় অপহরণ ও আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে ৫ জনকে আসামি করে মিরপুর থানায় মামলা হয়েছে।

মেয়েটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কেবিএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী চাঁদনী আক্তার মুন্নী (১৫) তার চাচাতো বোনের বিয়ে উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে আমলা বাজারে ফুল কিনতে যায়। পথিমধ্যে এলাকার চার বখাটে হাশেম রাজের ছেলে জয়নাল (২২), আনছের রাজের ছেলে মিঠুন (২৬), রেজন আলীর ছেলে আঙ্গুর (২৫), তাজমত রাজের ছেলে রাজু (২৪) এবং আফতার আলীর ছেলে পারভেজ (২২) জোরপূর্বক পাশের আমলা আলু বীজ খামারে নিয়ে যায়।

এ সময় মুন্নীর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় ক্যাম্প ইনচার্জ মুন্নীকে উদ্ধার করে স্থানীয় মহিলা মেম্বার রেজেলা খাতুনের সঙ্গে বাড়িতে পাঠান। পথিমধ্যে বখাটেরা ফের মেম্বারকে হুমকি দিয়ে অটোরিকশা থামিয়ে মুন্নিকে পাশ্ববর্তী ছাদিমনের বাড়িতে নিয়ে যায়। এ সময় তার ওপর শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনার লজ্জা সইতে না পেরে বাড়ি ফিরে চাচার বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মুন্নী।

পরে তার পড়ার টেবিলে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে বখাটেদের অত্যাচারের বিষয় তুলে ধরে সে। নিহত মুন্নি উপজেলার কাতলমারি গ্রামের হেকমত আলী ভাষার মেয়ে। 

মুন্নীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, তাকে যৌন হয়রানী করা হয়েছে। এ কারণে এতটুকু একটি বাচ্চা মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত বখাটেদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছে পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী। এদিকে এ ঘটনায় মুন্নীর বাবা নির্যাতনকারী ৫ বখাটের নামে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ২২,তাং ২৮/০৩/২০১৯। 

আরও পড়ুনঃ টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর দাদার মৃত্যু বার্ষিকীতে দোয়া মোনাজাত

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। কুষ্টিয়া মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, মুন্নির পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছে। এরই পরিপেক্ষিতে শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে মুন্নির ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এই ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানায় ওসি।

ইত্তেফাক/নূহু