নীলকমল নদীতে র্দীঘদিন ধরে সেতু বা বাঁশের সাঁকো নেই। ফলে কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ঘোগারকুটির সেনের ঘাটে এ নদীর দুপাশের শতাধিক পরিবার চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
র্দীঘদিন ধরে সেতু বা বাঁশের সাঁকো না থাকায় স্থানীয় কৃষকসহ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন পাঁয়ে হেঁটে পার হওয়ার সময় বই, খাতা নদীর পানিতে পড়ে ভিজে যায়।
পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে নীলকমল নদী পারাপারের সুবিধার্থে বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১০০ ফিট লম্বা একটি কাঁঠের সাঁকো তৈরি করে দিয়েছে। গত বছরের বন্যায় সেই সাঁকোটিও ভেঙ্গে যায়। ফলে সেতু বা কাঁঠের সাঁকো না থাকায় এক বছর ধরে চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন পথচারীরা।
এলাকাবাসী গত এক বছর ধরে চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের দ্বারে দ্বারে ধরণা দিলেও কোন লাভ হয়নি। এমনকি মেলেনি কোনো প্রতিশ্রুতিও। সামনে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে সীমাহীন দুর্ভোগের আশংকা স্থানীয়দের। তাই প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবি সেতু না হোক অত্যন্ত একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয় আবু বক্কর (৭০) ও রজব আলী (৬৫) বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ সাঁকোটি নির্মাণ করেছে। আমরা পাঁচ বছর এই সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করেছি। কিন্তু গত বছরের বন্যায় সাঁকোটি ভেঙ্গে যায়। বর্তমানে নেই কোন সাঁকো। এক বছর ধরে আমরা অনেক কষ্টে পারাপার হচ্ছি। জমির আবাদ দেখাশুনাসহ বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য থেকে স্থানীয়রা বঞ্চিত হচ্ছে। চেয়ারম্যান, মেম্বার কেউ কিছু বলে না। সামনে বর্ষা মৌসুম এলে আমাদের চলাচলে খুব কষ্ট হবে।’
শিক্ষার্থী আতিকুর, নাঈম, হেনামনি ও সুইটি মনি বলে, ‘শুষ্ক মৌসুমে আমরা পায়ে হেঁটে স্কুলে গিয়েছি। এখন পানি বাড়লে স্কুলে যাওয়ার সময় আমাদের জামা-কাপড়, বই-খাতা ভিজে যায়। এখানে একটি ব্রিজ হলে আমাদের ভোগান্তি কমবে।’
আরও পড়ুনঃ ফেনীর দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী লাইফ সাপোর্টে
জন দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খয়বর আলী বলেন, ‘এলাকাবাসীর সুবিধার্থে ২০১৭ সালে কাঠের সাঁকোটি মেরামত করে দিয়েছি। বহুবার এখানে একটি ব্রিজ করার জন্য আবেদন করেছি। এখনও আবেদন জানাচ্ছি। এখানে একটি ব্রিজ হলে এলাকাবাসী দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। এলাকাবাসীর এটা দীর্ঘদিনের দাবি।’
ইত্তেফাক/নূহু

