ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে উপাচার্যের ১৫ দিনের ছুটির আবেদন

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে উপাচার্যের ১৫ দিনের ছুটির আবেদন
উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ। ছবি: ইত্তেফাক।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টানা ১৭ দিনের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য এসএম ইমামুল হক ১৫ দিনের ছুটির জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান উপাচার্যের পক্ষে এই আবেদন করেন।

উপাচার্যের অবর্তমানে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. একেএম মাহাবুব হাসান উপাচার্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন বলে মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত ওই আবেদন পত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে ছুটির এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে টানা ১৭ দিন আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা।

ছাত্র নেতারা জানান, এই ছুটির আবেদনের মাধ্যমে আমাদের আই ওয়াশ দেয়া হয়েছে। তবে উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। মহাসড়কে সামিয়ানা টানিয়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ও তার ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত রেজিস্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ফয়সল মাহমুদ রুমীর বিরুদ্ধেও শ্লোগান দেয় এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে।

এদিকে বুধবারের মত বৃহস্পতিবারও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এর আগে ফেনীর মাদরাসা ছাত্রীর নুসরাতের মৃত্যুতে এক মিনিট নিরবতা পালন করে শিক্ষার্থীরা। বিকাল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে করে ব্যাপক জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও আট দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তারা বেলা ১১টা থেকে দুই ঘন্টা অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, ‘নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে ভরে গেছে এই প্রতিষ্ঠান। নির্যাতন আর নিপীড়ন ছাড়া কিছুই হয় না এখানে। আর শিক্ষারও কোনো পরিবেশ নেই। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের আট দফা দাবি সহকারে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছি।’

দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার উদাহারণ টেনে শিক্ষকরা বলেন, ‘৫৮তম সিন্ডিকেটে ৯৫২ নং আলোচ্যসূচীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদ পূণর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে শিক্ষককে চাকরি অপেক্ষাকাল (প্রভিশন পিরিয়ড) শেষ করে চাকরি স্থায়ীকরণ হতে হবে। এ সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি শেষ হওয়া সিলেকশন বোর্ডে অনেক শিক্ষককে ৩/৪ বছর চাকরি করার পর স্থায়ী করে দুই বছর অপেক্ষাকাল দেয়া হয়েছে। এতে করে ঐ শিক্ষকরা ঐ অপেক্ষাকাল শেষ করে চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য আবেদন করবে। সেখানেও সিন্ডিকেট বসার অজুহাতে আরো প্রায় বছরখানেক তাদের অপেক্ষা করতে হবে। যাতে করে এই শিক্ষকদ্বয় ৬ বছরেও সহকারী অধ্যাপক পদে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছে না। কিন্তু উপাচার্যের নেক নজরে থাকলে তাদের আর এসব নিয়মের মধ্যে থাকতে হয় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক শরীফা উম্মে শিরিনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি ও পদায়নের নীতিমাল ভঙ্গ করে সহকারী অধ্যাপক পদে পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে সকলকে হতবাক করে জেষ্ঠ্যতা লংঘন করে তাকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। একই ভাবে বাংলা বিভাগেও জেষ্ঠ্যতা লংঘন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ মুরাদনগরে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আয়োজন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবগত না করায় আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এরপর আন্দোলনকারীদের উপাচার্য ইমামুল হক রাজাকারের বলায় আন্দোলন আরো বেগবান হয় এবং যা টানা ১৭ দিন ধরে চলে আসছে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন