গোপালগঞ্জে ধর্ষণের আলামত ধ্বংস করতে অপহরণ করা শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ‘ধর্ষণের পর আলামত নষ্ট করতে শিশু অপহরণ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পর গোপালগঞ্জের পুলিশ ও প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই শিশুর এক স্বজনের বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। ওই বাড়িতে ওই শিশুর মা ও বাবা আত্মগোপন করে ছিলো। পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ গোপালগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। ওই শিশুকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপতালে ভর্তি করা হযেছে।
শিশুটি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামের শেখ মণি জ্ঞানেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।
শেখ মণি জ্ঞানেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র দত্ত জানান, হাতিকাটা গ্রামের মধুময় বিশ্বাসের ছেলে মনোজ কুমার বিশ্বাস ওরফে মংলা প্রতিবেশী ওই ছাত্রীকে প্রইভেট পড়াতো। গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ওই ছাত্রীকে সে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি ওই ছাত্রী ৯ এপ্রিল ফাঁস করে দিলে তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপতালে ভর্তি করা হয়। ধর্ষণের আলামত ধ্বংস করতে দুর্গাপুর ইউপির ২ নং ওয়ার্ড মেম্বর হাসান শেখের ভাই শাজাহান শেখ হাসপতাল থেকে সু-কৌশলে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে। পাশাপাশি মেম্বারের চাপে ওই ছাত্রীর মা-বাবা অত্মগোপন করেন। পরে প্রশাসনের অনুরোধে তিনি বাদী হয়ে গত ১০ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থানায় মনোজ ও শাহজাহানের নাম উল্লেখ এবং ৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপুর ইউপির ২ নং ওয়ার্ড মেম্বর হাসান শেখ ধর্ষক মনোজের পরিবারের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। তারপর তার ভাইকে দিয়ে ওই ছাত্রীকে হাসপতাল থেকে অপহরণ করিয়েছে। পাশাপাশি ইউপি মেম্বর ধর্ষক মনোজকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। ইউপি মেম্বর ও তার ভাই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এলাকার সব ধরণের অপকর্মের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
অভিযুক্ত ইউপি মেম্বর হাসান শেখ এ ঘটনায় জড়িত নয় দাবি করে বলেন, ‘আমার ভাই শাহজাহান এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। এ কারণে গ্রামের লোকজন আমার নামও বলছে। প্রকৃতপক্ষে আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জ সদর থানার এস.আই বকুল বলেন, ‘সাতপাড় গ্রামে ওই শিশুর দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপতালে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত শিশুটির ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। এ ঘটনায় জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
আরও পড়ুনঃ রংপুর মহানগরীতে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী আটক
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপতালের সহকারী পরিচালক ডা. আসিত মল্লিক বলেন, ‘৯ এপ্রিল বিকেলে শিশুটি হাসপতালের জরুরি বিভাগ থেকে ভর্তি হয়। ওয়ার্ডে আসার পর নার্সরা বেড ও ফাইল রেডি করতে রুমে যান। এ ফাঁকে শিশুটি কাউকে কিছু না বলে চলে যায়। পরের দিন ডাক্তার ওয়ার্ডে রাউন্ডে গিয়ে বেডে রোগী না পেয়ে রোগী পাওয়া গেল না লিখে ফাইল ক্লোজ করে দেন। এটি সুকৌশলে হাসপতাল থেকে অপহরণ কিনা আমার জানা নেই। রোগী ভর্তি হলেই তার ডাক্তারী পরীক্ষা করা হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু

