ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্র হেরে গেছে : দুলু

৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্র হেরে গেছে : দুলু
রুহুল কুদ্দুস তালুকতার দুলু। ফাইল ছবি।

রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকতার দুলু বলেছেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। এটা ছিল একটা পাতানো নির্বাচন, একটা ষড়যন্ত্রের নির্বাচন।’

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহীর ‘অনুরাগ কমিউনিটি সেন্টার’-এ রাজশাহী জেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭০ সালে মানুষ যেভাবে তৎকালীন পাকিস্তানকে বয়কট-প্রত্যাখান করেছিল, বাংলাদেশের মানুষ ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখান করেছে। সরকার যখন দেখেছে, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখান ও ধানের শীষকে ক্ষমতায় বসাতে প্রস্তুত, তখন প্রশাসন-পুলিশ দিয়ে আগের রাতে (২৯ ডিসেম্বর) নির্বাচন করে আমাদের নিশ্চিত বিজয়কে ঠেকিয়ে দিয়েছে।’

দুলু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জোর করে জয় লাভ করেছে। আসলে ৩০ তারিখ বিএনপিই জয়লাভ করেছে। আওয়ামী লীগ যেদিন জোর করে জয়লাভ করেছে, সেদিন বাংলাদেশের গণতন্ত্র হেরে গেছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হেরে গেছে ‘

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দুলু বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় সরকার বিভিন্ন নাটক শুরু করেছে। আপনারা দেখেছেন কয়েকদিন আগে সরকারের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেছেন, যদি খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্যারোলের আবেদন করা হয়, তাহলে নাকি প্যারোলে মুক্তি দিবে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন। সেই নেত্রীকে কারাগারে আটকিয়ে রেখে সরকার নাটক করছে।’

দুলু আরও বলেন, ‘আন্দোলন করেই আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা আন্দোলন করলেই সরকার বলে বিএনপি নাকি সন্ত্রাসী দল। দেশে কিছু হলেই বিএনপির দোষ। আবার আন্দোলন না করলেও সরকার বলে বিএনপি ঘরে ঢুকে গেছে, বিএনপির আন্দোলন করার কোনো শক্তিই নাই। তাই আমরা মনে করি, সরকারকে আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি। এখন মনে করছি, সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না, আঙ্গুল বাঁকা করতে হবে। দলকে নতুনভাবে তৃণমূল থেকে সংগঠিত করতে হবে। ত্যাগী, সাহসী, অকুতোভয় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত করা হবে। তৃণমূল থেকে দলকে সংগঠিত করেই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা দেশনেত্রীকে জেলখানা থেকে বের করে আনতে চাই।’

তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা মনে করেছিলাম, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। এখন আন্দোলন করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ রংপুরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ মামলার মূল আসামি গ্রেফতার

রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপুর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভার উদ্বোধক ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কামরুল মনির। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, আবদুস সাত্তার ম-ল ও সাবেক এমপি জাহান পান্না।

সভায় রাজশাহী জেলা, বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার ২৩টি সাংগঠনিক ইউনিটের প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য দেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন