ভাণ্ডারিয়ায় অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ডায়েরিয়ার প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালের বারান্দায়ও মিলছে না আশ্রয়। প্রায় দেড়মাস যাবৎ দিনে-রাতে ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভাণ্ডারিয়া হাসাপাতালের পুরুষ-মহিলা ওয়ার্ড ছাড়াও হাসপাতালের বারান্দায়ও বয়স্ক, শিশু, কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ রোগীদের বেড মিলছে না। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের সেবায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গত ২৭এপ্রিল একদিনে ভর্তি হয়েছে ৬৬জন। প্রায় দেড় মাস যাবৎ গড়ে প্রতিদিন ৩৫/৪০জন রোগী আসেন। তাদের মধ্যে যারা কম আয়ের তারা ভর্তি হচ্ছেন। আর স্বচ্ছল রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা বা বিভাগীয় সরকারি হাসপাতাল বা বেসরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে ছুটছেন। যারা ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের সেবা নিশ্চিত করতে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
এদিকে ১৫মাসের এক রোগীর বাবা উপজেলার উত্তর পৈকখালীর বাসিন্দা রিকশাচালক এনায়েত হোসেন তালুকদার অভিযোগ করেন ৪ দিন হাসপাতালে রাখলেও তার শিশু পুত্রের জন্য হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধ দেওয়া হয়নি। তিনি ৯শ টাকার ওষুধ বাইরে থেকে কিনে ৪ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরেছেন।
সোমবার ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালের সরেজমিনে দেখা যায় রোগীদের স্যালাইন দেওয়া হলেও অন্য ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে কর্তব্যরত সেবিকারা রোগীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে ডাইরিয়ার স্যালাইন, খাবার স্যালাইন, সিপ্রোসিন, এজিথ্রোমাইসিন, মেট্রোনিডাজল সরবরাহ করছি পর্যাপ্ত পরিমানে।’ তবে মেট্রোনিডজল ট্যাবলেট থাকলেও ইনজেকশন নেই বলেও জানান তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য প.প. কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ‘দেড়মাস যাবৎ অতিরিক্ত ভিড় থাকলে আমরা রোগীদের সেবা দিতে কোন প্রকার কার্পণ্যতা করি নাই।’ তিনি আরো জানান, ‘তাপমাত্রা দিনে দিনে বৃদ্ধির কারণে পানিজনিত কারণে এ ডায়েরিয়ার প্রকোপ বেড়েছে।’
হাসাপতালে ডাক্তার, নার্স, ওষুধ আছে কি না জানতে চাইলে বর্তমানে ডাক্তার সংকটের কথা বলে জানান, ‘৩১ শয্যার জন্য ১০ জন ডাক্তার এবং ৫০ শয্যার জন্য ১৭জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ৫০ শয্যার হাসপাতালে আমিসহ ডাক্তার আছে ৫জন।’
না থাকার কারণ ব্যখ্যা করে বলেন, ‘নিয়োগ থাকলেও বাইরের ডাক্তাররা এসে আবার চলে যাওয়ার ফলে শূন্যতা বহু আগে থেকে রয়েছে। তবে ১৮জন সেবিকা যা থাকার কথা সেখানে কোন শূণ্যতা নেই।’
আরও পড়ুনঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার
ওষুধের বিষয়ে বলেন, ‘আমরা ডাইরিয়া স্যালাইন ৫ হাজার এবং খাবার স্যালাইন ২৫ হাজার ও প্রয়োজনীয় অন্য ওষুধের চাহিদাপত্র উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে ইতিমধ্যে প্রেরণ করেছি। বরাদ্দ পেলে ভিড় বাড়লেও সেবাদান ব্যহত হবে না। তবে কখন বরাদ্ধ পাই সে বিষয়ে একটি অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।’
ইত্তেফাক/নূহু

