ঝালকাঠির রাজাপুর থানা অভ্যন্তরে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা হয়েছে।
আদালতের বিচারক শেখ আনিছুজ্জামান রাজাপুর থানার ওসিকে মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নির্যাতিত ছাত্রীর মা আম্বিয়া বেগম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, রাবেয়া খাতুন নামের দাখিল সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীর বাড়ি রাজাপুর উপজেলার পুটিয়াখালী গ্রামে। তার বাবা কাসেম হাওলাদার একজন মৎস্যজীবী মা আম্বিয়া বেগম গৃহিনী। গত ১৭ মার্চ ২০১৯ বিকালে আম্বিয়া বেগমকে মারধর করে তার লাগানো বিভিন্ন ফলের গাছ কেটে নিয়ে যায় পাশ্ববর্তী নুরুজ্জামান বেপারী গং। এ ব্যাপারে গত ১৮ মার্চ কিশোরীর মা আম্বিয়া বেগম রাজাপুর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে এ.এস.আই আবুল কালাম তাকে ওসির সঙ্গে দেখা করতে বাধা দিয়ে বলে, ‘কাগজপত্র আর পাঁচ হাজার টাকা আমার কাছে রেখে যান। যা করার সব আমি করে দেবো।’
আম্বিয়া বেগম টাকা দিয়ে বাড়ি চলে যান। ঘটনার তিন চারদিন পার হলেও কোন মামলা না হওয়ায় আম্বিয়া বেগম এ.এস.আই আবুল কালামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে এ.এস.আই আবুল কালাম বলেন, আরও পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। দুই-তিনদিন পর আম্বিয়া বেগম রাজাপুর থানার সামনে এসে আরও পাঁচ হাজার টাকা দেন।
দুই দফায় টাকা লেনদেনের কথোপকথনের বিষয়টি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখে কিশোরী রাবেয়া খাতুন। এ.এস.আই আবুল কালাম দশ হাজার টাকা নিলেও রাজাপুর থানায় মামলা রেকর্ড না করিয়ে একটি জিডি করেন এবং জিডি তদন্তের অনুমতি চেয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। জিডির বিষয়ে আম্বিয়া বেগমকে তলব করেন আদালত।
গত ৭ এপ্রিল আম্বিয়া বেগম আদালতে হাজির হয়ে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলেন আদালতকে। পরের দিন একই আদালতে গাছ কেটে নেওয়া ও মারধরের বিষয়ে আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন আম্বিয়া বেগম। আদালতের বিচারক সিআর মামলাটি রাজাপুর থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ডের নির্দেশ দেন। ১৬ এপ্রিল এ বিষয়ে রাজাপুর থানায় এফআইআর রেকর্ড হয়। এতে আম্বিয়া বেগমের ওপর ক্ষিপ্ত হন আবুল কালাম।
বিষয়টি জানতে পেরে গত ২৪ এপ্রিল মা বাবাসহ কিশোরীকে রাজাপুর থানায় ডেকে এনে বকশির কক্ষে নিয়ে তার মায়ের সামনে ওই কিশোরীকে মারধর করে এ.এস.আই আবুল কালাম ও এক নারী কনেস্টবল। মারধরের পর কিশোরীর মোবাইল থেকে মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেয় আবুল কালাম এবং বলে তোর এতবড় সাহস পুলিশের কথা রেকর্ড করে রাখিস! এরপর নানা অশ্লীল গালিগালাজ করে প্রায় দেড় ঘন্টা থানায় আটকে রাখে। বহু অনুনয়-বিনয়ের পর হাসপাতালে না যাওয়ার শর্তে কিশোরীকে ছেড়ে দেয় আবুল কালাম।
আরও পড়ুনঃ শিবগঞ্জে ভটভটি উল্টে শ্রমিক নিহত
পুটিয়াখালী বাজারের অসুধের দোকান থেকে অসুধ কিনে খাওয়ানোর পরও ওই কিশোরী সুস্থ না হওয়ায় গত ২৭ এপ্রিল রাবেয়াকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করানো হয়।
ইত্তেফাক/নূহু

