ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানায় গত ৫দিনে ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা ও যৌন হয়রানির কারণে আত্মহত্যার তিনিটি মামলা হয়েছে। সোমবার বিয়ের প্রলোভনে এক কিশোরীকে ধর্ষণ মামলা, রবিবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা এবং ২৭জুন প্রেমিকের যৌন হয়রানি ও সালিশে কটুক্তির কারণে আরেক কিশোরীর আত্মাহত্যার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে।
মামলা ও ভিকটিম সূত্র জানায়, উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালী গ্রামে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ৩বছর যাবৎ ধর্ষণ করে আসছিলো একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র মো. জুলহাস মিয়া (২০)। তার বিরুদ্ধে সোমবার গৌরীপুর থানায় মামলা হয়েছে।
ঘটনার শিকার কিশোরী জানায়, জুলহাস তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ৩বছর যাবৎ সম্পর্ক স্থাপন করে। গত ১৬জুন তাকে ধর্ষণ করে। এ গ্লানি থেকে বাঁচতে সে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। কিন্তু বেঁচে যায়। তবে জুলহাসের মা ময়না আক্তার জানান, তার ছেলে এবার এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছে, এসব অভিযোগ মিথ্যা।
শনিবার সতিষা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী পৌর শহরের সতিষা গ্রামে বিকাল ৩টার দিকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিলো। পথে একই গ্রামের নুরুল হকের পুত্র মো. কাউসার (১৮) তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ওই শিশু চিৎকার দিলে কাউসার পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই কাউসার পলাতক রয়েছে। ভিকটিমের মা বাদী হয়ে রবিবার গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অপরদিকে মাওহা ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা মিজাজ খান টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেণির ছাত্রী নূপুর আক্তার ও দশম শ্রেণির ছাত্র প্রসেনজিত একসঙ্গে পড়ার সুবাদে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ২৫জুন নূপুর আক্তার ও প্রসেনজিত সরকার কেন্দুয়া উপজেলার নিঝুম পার্কে বেড়াতে যায়। সেখানে এলাকাবাসীর হাতে আটক হয় প্রেমিক যুগল। এরপর অনুষ্ঠিত সালিশে সুরাহাবিহীনভাবে নূপর আক্তারকে ২৬জুন বাড়িতে রেখে যান সালিশকারীরা।
সালিশ-দরবারের কটুক্তি ও অপবাদ সইতে না পেরে ‘চিরকুট’ লিখে ওইদিন সন্ধ্যায় নিজ ঘরে আত্মাহত্যা করে নূপুর আক্তার। আত্মাহত্যার প্ররোচনা ও যৌন হয়রানির দায়ে এ ঘটনায় ২৭জুন প্রেমিক প্রসেঞ্জিত সরকারের বিরুদ্ধে গৌরীপুর থানায় মামলা হয়েছে।
সোমবার (১ জুলাই) গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভিকটিমের বাড়ি থেকে আত্মহত্যার আগে ভিকটিমের লেখা চিরকুট উদ্ধার করেন।
আরও পড়ুন: তজুমদ্দিনে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, চিরকুট বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্য মামলাগুলির তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/নূহু

