নয়ন বন্ড নিহতের খবরে বরগুনার মানুষের মধ্যে স্বস্তি

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৯, ২০:১৩

বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার মূল হোতা নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকালে বরগুনার মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি নেমে আসে। নয়ন বন্ডের লাশ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আছে এমন খবরে শহর ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কয়েক হাজার মনুষ হাসপাতালে ছুটে যায়।

হাসপাতাল চত্তরে মানুষের মধ্যে লক্ষ করা যায় এক ধরনের আনন্দ। তাদের অনেকে এ সময় পুলিশকে মিষ্টি বিতরণ করে। এ ব্যাপারে উপস্থিত জনতা বাকি আসামিদেরও শাস্তি দাবি করে।

হাসপাতাল চত্বরে বসে ডিকেপি রোডের বাসিন্দা নোমান জানান, নয়ন বন্ড একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিলো। তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করার সাহস পায়নি। এলাকার মধ্যে সে একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিলো। নয়ন বন্ডের মৃত্যুর ফলে এই ভীতিকর পরিবেশের হাত থেকে ডিকেপি রোডের মানুষ মুক্ত হলো।

ধানসিঁড়ি রোডের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলম বলেন, ‘আমরা ভয়ে মুখ খুলতে পারতাম না। নয়নের মতো উচ্ছৃঙ্খল ছেলেরা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আমরা সাধারণ মানুষ। যদি আগে থেকে এই ছেলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতাম তাহলে হয়তো রিফাতের মতো একটি তাজা প্রাণকে অকালে মরতে হতো না।’

কলেজ রোড এলাকার সাইফুদ্দিন সবুজ বলেন, বিভিন্ন সময় কলেজের মেয়েদের উত্যক্ত, এলাকার কোমলমতি বাচ্চাদের মাদকাসক্ত করে তোলা, কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের মোবাইল, ল্যাপটপ ছিনতাইসহ একাধিক অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলো এই সন্ত্রাসী নয়ন। একাধিকবার গ্রেফতার হলেও বারবার আইনের ফাক দিয়ে বেরিয়ে যেতো সে।

তিনি আরও বলেন, ‘কলেজ রোডসহ বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় নয়ন একচ্ছত্র মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। যার নেতৃত্বে ছিলো রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী। শুধু নয়নকে নয় রিফাত ও রিশান ফরাজীকেও গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিৎ।’

আরও পড়ুন: চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ

মঙ্গলবার সারাদিন শহরের টক অব দ্য টাউন ছিলো নয়ন বন্ড নিহতের খবর।

ইত্তেফাক/নূহু