ঢাকা শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬
৩৩ °সে

৩০ বছর পর নবযৌবনে বড়াল, বইছে আনন্দস্রোত

৩০ বছর পর নবযৌবনে বড়াল, বইছে আনন্দস্রোত
৩০ বছর পর বড়াল তার যৌবন ফিরে পেয়েছে। কুলকুল করে বইছে আনন্দস্রোত। ছবি: ইত্তেফাক

দীর্ঘ ৩০ বছর পর চাটমোহর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বড়াল নদীতে পানি এসেছে। বইছে স্রোত। যা কিছুদিন আগেও কারো কল্পনাতেও ছিলনা। কেউ ভাবেননি কচুরিপানায় পরিপূর্ণ, বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হওয়া এই বড়াল নদীতে পানি আসবে, স্রোত বইবে। স্বস্তিতে বড়াল পাড়ের মানুষ, বিভিন্ন পয়েন্টে পাতা হয়েছে মাছ ধরার জাল, খড়া।

পরিষ্কার পানি এখন বড়ালে। পৌর মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল নিজ উদ্যোগে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন। বাঁশের সাঁকো তুলে দিয়ে কচুরিপানা অপসারণ করা হচ্ছে। বাড়ছে পানির স্রোত। বড়াল ফিরে পাচ্ছে তার যৌবন।

বড়াল পাড়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, তারা অনেক বছর পর এই নদীর স্রোত দেখলেন।

জানা যায়, ২০০৮ সালে বড়াল রক্ষায় তৈরি হয় আন্দোলন কমিটি। সহায়তা করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), এএলআরডিসহ বিভিন্ন সংগঠন। বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির নিয়মিত সভা, সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেলার দায়ের করা রিট মামলায় উচ্চ আদালত বড়াল থেকে সব বাঁধ ও জলকপাট অপসারণে সরকারে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী বাঁধ অপসারণ করে সেতু নির্মাণ করা হয়। এতে স্বস্তি ফেরে বড়ালপাড়ের মানুষদের।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮০ সাল পর্যন্ত বড়াল নদে পানিপ্রবাহ ছিল। ১৯৮১ সালে রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মা থেকে বড়ালের উৎসমুখে ও পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দহপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দুটি জলকপাট নির্মাণ করে। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে নৌযান চলাচল ব্যাহত হতে থাকে। স্থানীয়রা তখন নদী পারাপারের জন্য সেতু তৈরির দাবি তোলেন। কিন্তু সেতু না করে বড়ালে চারটি আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। দিনে দিনে দখল-দূষণে ২২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বড়াল পরিণত হয় মরা খালে। পানি না পেয়ে ব্যাহত হতে থাকে বিস্তীর্ণ চলনবিলের চাষাবাদ। এখন সেই বড়ালে পানি প্রবেশ করেছে। আন্দোলনকারীদের সফলতা এসেছে অনেকটাই।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় পানি কমছে, বাড়ছে দুর্ভোগ

বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির নেতারা জানান, বড়ালের পানি প্রবাহ সচল রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বড়ালে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। বাড়ছে দূষণও। চলছে দখল। এর স্থায়ী প্রতিকার দরকার। বড়াল নদী প্রবহমান থাকুক-এটা সর্বস্তরের মানুষের দাবি।

বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন, এই পানি প্রবাহ আমাদের অন্দোলনের ফসল। আশা করছি সরকার দ্রুত বড়াল মুক্ত করতে পদক্ষেপ নেবে।

ইত্তেফাক/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৩ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন