ঠাকুরগাঁওয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছয়জন, হাসপাতালে নেই পরীক্ষার ব্যবস্থা

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ০০:৫১

ঢাকার পরে এবার ঠাকুরগাঁওয়েও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগ। গত দুইদিনে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ছয়জন। রোগীরা বেশিরভাগ ঢাকায় আক্রান্ত হয়েই গ্রামের বাড়িতে ফিরে এখানে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার দুপুরে বিষটি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম।

এদিকে সদর হাসপাতালে প্যাথলজিকাল পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে থেকেই করতে হচ্ছে বিভিন্ন পরীক্ষা। অপরদিকে আতঙ্কে রয়েছেন হাসপাতালে ভর্তি অন্যান্য রোগীরাও।

হাসপাতালের তথ্যমতে, গত ২৮ জুলাই থেকে শুরু করে ২৯ জুলাই পর্যন্ত ছয়জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। তবে এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থার উন্নতি হলে বাড়ি ফিরেছেন তারা। এখনো চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন আরো তিনজন।

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীরা হলেন- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উত্তর বঠিনা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সুমি আক্তার (২৪), পীরগঞ্জ উপজেলার ভবেশ রায়ের ছেলে পোশাক শ্রমিক স্বপন রায় (২১), পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে পাইলট (২০)। 

আরো পড়ুন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকার দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি বিএনপির

চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরত যাওয়া রোগীরা হলেন- বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের দমিজুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (১৯), সদর উপজেলার ফকদনপুর গ্রামের রতিশ বর্মনের ছেলে শহর বর্মন (১৯) ও দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ এলাকার খাইরুল ইসলামের ছেলে রুবেল (৩০)। 

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সুমি আক্তারের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, তার মে ঢাকার পান্থপথ এলাকায় থাকতেন। হঠাৎ ১৮ জুলাই জ্বর অনুভব করলে সে পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত। পরে তাকে গ্রামে নিয়ে আসা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৯ জুলাই ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মেয়েকে। 

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত স্বপন রায়ের ভাই বকুল রায় জানান, ঢাকায় কাজ করতেন তার ভাই স্বপন। হঠাৎ করেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ছোট ভাই। পরে তাকে বাসায় নিয়ে আসার পর ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে ডেঙ্গু সনাক্তকরণের কোন প্যাথলজিকাল পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। তাই রোগী ও তাদের স্বজনদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। যদি এই হাসপাতালে এসব ব্যবস্থা থাকতো তাহলে হয়তো এতো সমস্যা হতো না।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ছয়জন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফেরত গেছেন। অবশিষ্ট তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে পরীক্ষার যন্ত্রপাতি না থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কোন ডেঙ্গু রোগীর পরীক্ষার জন্য সরকারি ফিয়ের অতিরিক্ত টাকা কেউ না নেয় সেজন্য জেলা শহরের প্যাথলজি এবং ক্লিনিক মালিকদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ