ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলার বিলকেন্দুয়াই গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মুক্তিযোদ্ধাসহ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ (৭৫) ও মলাই মিয়া (৪৫)। মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার রাতে আহতাবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মলাই মিয়া নরসিংদীতে মারা যায়। নিহত দুজনই বিলকেন্দুয়াই গ্রামের বাসিন্দা।
সংঘর্ষে মহিলাসহ কমপক্ষে ৩০জন আহত হয়। সংঘর্ষ পরবর্তী সময়ে উভয়পক্ষের দাঙ্গাবাজরা বাড়িঘর ভাংচুর করে ও ব্যাপক লুটতরাজ চালায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের বিলকেন্দুয়াই গ্রামের মাস্টার বাড়ির আনোয়ার ও খন্দকার বাড়ির নসর মিয়ার মধ্যে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এর জের ধরে সোমবার বিকেলে খন্দকার বাড়ির মলাই মিয়ার বাড়িতে মাস্টার বাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
এ সময় দাঙ্গাবাজরা ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতংকের সৃষ্টি করে। পরে উভয়পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মলাই মিয়াকে বল্লম দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় মহিলাসহ উভয়পক্ষের ৩০জন আহত হয়।
আহতদের মধ্যে রুবেল (২৬), মানিক মিয়া (৩৫), মাসুদ মিয়া (৩৫), রাসেল (১৮), রাজিয়া(৩০), ইয়ামিন (২২), আয়াতুল্লাহ (২৭), মমিনুল হক (৪০), ওয়াসিম (২৫), ইয়ামিন মিয়া (১৭), জীবন (১৮), বারেক (৪০), সাইদ মিয়া (৬৫), সুমন মিয়া (২১), রাকিব মিয়া (১৮), নাজমা (২৮) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি ও অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত মলাই মিয়া ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুল হক আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করেন। ঢাকা যাবার পথে মলাই মিয়া মৃত্যুবরণ করেন। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ মারা যান।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে উভয়পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের কমপক্ষে ৭০টি বাড়িঘর ভাংচুর, ২০-২৫টি গরু লুটপাট করেছে। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হকের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন, এসপি হেড কোয়ার্টার আবু সাঈদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল রেজাউল কবির, র্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এদিকে উভয়পক্ষের লোকজন আতংকে বাড়িঘর ছেয়ে মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: সখীপুরে স্কুলছাত্রীকে আড়াইমাস আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে ফুপা!
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ইন্ধনদাতাসহ সকলেই আইনের আওতায় আসবে।’
ইত্তেফাক/নূহু
