৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কারে দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৫২

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা সদরের গোল চত্বর থেকে সিংড়া উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটারের রাণীনগর-কালিগঞ্জ সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খানাখন্দকে ভরে গেছে দীর্ঘ সড়কটি। দুই পাশে সড়ক প্রশস্ত করার কথা থাকলেও প্রশস্ত করা হচ্ছে এক পাশে। এদিকে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে টেন্ডার দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হলেও প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক মেয়াদেও দৃশ্যমান কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন না হওয়ায় বর্তমান ঠিকাদারকে দেওয়া কার্যাদেশ বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কের উন্নয়ন তথা সংস্কার, প্রশস্তকরণ, নতুন সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য আলাদা দুটি প্যাকেজে দরপত্রের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ঢিমেতালে কাজ চলছে। শেষ হতে কত সময় লাগবে তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যে সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম বলেন, সরকার প্রতি বছর সড়ক, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারণে জনগণ যথাসময়ে তার সুফল পাচ্ছে না। কাজের গতি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

নওগাঁ সড়ক ও জনপদ (সওজ) অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৩ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে প্রশস্তকরণ, সংস্কার ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য জন্য ৪৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় ধরে দরপত্রের মাধ্যমে স্পেক্টা ইন্টারন্যাশনাল লি. ও ওয়াইড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামক জয়েন্ট ভেনঞ্চার কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরে এই কাজের ঠিকাদারি দায়িত্ব পায় রাজশাহীর এএইচ এন্টারপ্রাইজ।
 
কাজের সময়সীমা এক বছর চার মাস ১৫ দিন দেওয়া থাকলেও অর্ধেক সময় পার হওয়ার পরেও চোখে পরার মত দৃশ্যমান তেমন কোনো কাজই হয়নি। সড়কটি অতি জনগুরুত্বপূর্ণ ও উপজেলার পূর্বাঞ্চলের প্রধান সড়ক হওয়ার পরেও ঢিমেতালে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়াও সড়কের দুই পাশে প্রশস্তকরণ করার কথা থাকলেও কাজ হচ্ছে এক পাশে। অথচ সড়কের দুই পাশের লাখ লাখ টাকার গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। গাছ বিক্রয় ও টেন্ডারে অনেক অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: কোটি টাকার তামাক ও নকল ব্র্যান্ডরোল জব্দ

দায়িত্বরত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এএইচ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার এআর খাঁন (লাবলু) বলেন, কার্যাদেশে দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা বলা আছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। সড়কটির দৈর্ঘ্যে মোট ১৮ ফিট হবে। তাই সড়কের এক পাশ প্রশস্তকরণ করার কাজ করা হবে। আর সড়কের যে অংশ গুলোর অবস্থা খুবই খারাপ সেই অংশ গুলো আপাতত চলাচলের জন্য মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবো। 

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, গত দুই থেকে আড়াই মাস কাজ বন্ধ থাকায় দরপত্র বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি দেওয়া হয়েছে।  

ইত্তেফাক/অনি