ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬
৩৪ °সে


পৃথিবীর আকাশে জ্বলন্ত গ্রহাণু

পৃথিবীর আকাশে জ্বলন্ত গ্রহাণু
ফাইল ছবি

সাধারণত প্রতি একশ বছরে দুই থেকে তিনবার বড় ধরনের জ্বলন্ত গ্রহাণুর দেখা মেলে। গত ডিসেম্বরেও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঘটে গেল বিশাল এক অগ্নিগোলকের বিস্ফোরণ, যা কি না গত তিরিশ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম। তবে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, ডিসেম্বরের ঐ অগ্নিগোলকের বিস্ফোরণ অনেকের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল। এর প্রধান কারণ হিসেবে নাসা বলছে- ঐ বিস্ফোরণ ঘটেছিল রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের কাছে বেরিং সাগরের উপরে। হিরোশিমায় যে পরমাণু বোমা ফেলা হয়েছিল তার তুলনায় এই বিস্ফোরণ ছিল দশগুণ বেশি শক্তিশালী।

নাসার প্ল্যানেটারি ডিফেন্স অফিসার লিন্ডলে জনসন জানান, এত বড় অগ্নিগোলক পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রতি একশো বছরে বড়জোর দুই বা তিনবার দেখা যায়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এর আগে এই ধরনের বড় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছিল ৬ বছর আগের রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর দুপুরে এই গ্রহাণু সেকেন্ডে ৩২ কিলোমিটার বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। গ্রহাণুটি ছিল আকারে মাত্র কয়েক মিটার প্রশস্ত। পৃথিবীর ২৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার উপরে এটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সময় এর শক্তি ছিল ১৭৩ কিলোটন।

তবে এত বড় একটি বিস্ফোরণ কিভাবে পৃথিবীবাসীর নজর এড়িয়ে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি ঘটেছিল বেরিং সাগরের উপর। আর এই বিস্ফোরণের সময় এমন কোনো প্রতিঘাতও তৈরি হয়নি যা সংবাদ শিরোনাম হতে পারে। পৃথিবীর বেশির ভাগ অংশে পানি থাকায় এ ধরনের বিস্ফোরণ থেকে এক ধরনের সুরক্ষা পাচ্ছে পৃথিবী।

হিউস্টনে নাসার এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে এই বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ঐ সম্মেলনে জানানো হয়, আমেরিকার মিলিটারি স্যাটেলাইটগুলো এই বিস্ফোরণ শনাক্ত করতে পেরেছিল। তারাই মূলত এ ঘটনার কথা জানায় নাসাকে। নাসা এখন এমন প্রযুক্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে যা দিয়ে জানা যাবে এই ধরনের গ্রহাণু ঠিক কখন কোথায় আঘাত হানতে পারে।-বিবিসি

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন