ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
২৬ °সে


আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত।

হরমুজ প্রণালীর কাছে ওমান উপসাগরে দুটি তেল ট্যাংকারে হামলার পর ইরানকে আরো কোণঠাসা করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে এ ঘটনার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাজ্যও। আর সৌদি আরব এ ঘটনায় দ্রুত ও নিশ্চয়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। খবর:আল জাজিরা ও বিবিসির।

গত বৃহস্পতিবার সকালে ওমান উপসাগরে দুইটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হয়। হামলার পর ট্যাংকার দুটিতে আগুন ধরে যায়। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই ওমান উপসাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে চারটি ট্যাংকারে এ ধরনের হামলা হয়েছিল। এসব হামলার পর ইরানকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবারের হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভিডিও’তে দেখা গেছে হামলার পর ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ড ক্ষতিগ্রস্ত একটি ট্যাংকার থেকে একটি অবিস্ফোরিত মাইন বা বোমা সরিয়ে নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, এই হামলা ইরান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথাযথ প্রমাণ আছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছি না।

শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান বলেছেন, ট্যাংকারে হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিকভাবে মতৈক্য তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। পেন্টাগনে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং তিনি নিজে এই লক্ষ্যে কাজ করছেন। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র আরো সেনা পাঠাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আকস্মিক ঘটনা বিবেচনায় রেখে আমরা সব সময় পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যও ইরানকে দোষারোপ করেছে। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ভয়াবহ হুমকি তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে জাপানি মালিকানাধীন কাকুকা কারেজিয়াস এর মালিক ইয়ুতাকা কাতাদা যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে বলেছেন, দ্বিতীয় বিস্ফোরণের আগে জাহাজের ক্রুরা একটি উড়ন্ত বস্তু দেখেছিলো। ইরান সব অভিযোগ অস্বীকার করার পর জাতিসংঘ, রাশিয়া এবং কাতার এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব এ ঘটনার জন্য দ্রুত এবং নিশ্চয়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী খালিদ আল-ফলিহ জ্বালানি সরবরাহে হুমকি ও বাজার অস্থিতিশীলতার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি জোরদার করা হয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে এ ধরনের ঘটনা যুদ্ধের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ইত্তেফাক/এসআর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন