পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে পুরু বরফের চাদরে মোড়া অ্যান্টার্কটিকায় মিলেছে সৌরমণ্ডল থেকে অনেক দূরের কোনো মৃত নক্ষত্রের শরীরের টুকরো! তাও আবার অবিকৃত অবস্থায়! যে মৃত নক্ষত্রের শরীরের টুকরো পাওয়া গেছে অ্যান্টার্কটিকায় সেটি আমাদের সূর্যের চেয়ে বহু গুণ ভারী ছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মাত্র ২০ বছর আগেই হয়তো মৃত্যু হয়েছে সেই নক্ষত্রটির। এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান—জার্নাল ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’-এ।
অ্যান্টার্কটিকার পুরু বরফের চাদরের নিচ থেকে তারা পেয়েছেন অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় লোহা। যা পৃথিবীতে পরমাণু অস্ত্রশস্ত্র ছাড়া আর কোনো ভাবেই পাওয়া সম্ভব নয়। ক্যানবেরার অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক ডমিনিক কল জানিয়েছেন, তিনি ও তার সহযোগী গবেষকরা অ্যান্টার্কটিকার কোহনেন স্টেশন থেকে ২০১৫ সালে প্রায় ১ হাজার ১০০ পাউন্ড ওজনের বরফ সংগ্রহ করেছিলেন। যেখান থেকে তারা ঐ বিশাল বরফখণ্ডটি সংগ্রহ করেছিলেন, অ্যান্টার্কটিকায় সেখানে বরফ জমা হয়েছে মাত্র ২০ বছর আগে। বরফখণ্ডটি সংগ্রহের পর সেটি পাঠানো হয় জার্মানির এক গবেষণাগারে। তাকে গলানো ও পরিস্রুত করার জন্য। তারপর গবেষকরা সেই গলানো ও পরিস্রুত বরফখণ্ডটিকে রেখেছিলেন একটি মাস স্পেকট্রোমিটারের নিচে। তার মধ্যে কী কী রয়েছে তা বোঝার জন্য।
ডমিনিক কল বলেন, মাস স্পেকট্রোমিটারই আমাদের প্রথম জানায়, অ্যান্টার্কটিকা থেকে আনা সেই বরফখণ্ডের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত বিরল ও পৃথিবীতে একেবারেই অস্থায়ী তেজস্ক্রিয় লোহা। যে লোহার পরমাণুর নিউক্লিয়াসে রয়েছে ২৬টি প্রোটন ও ৩৪টি নিউট্রন। লোহার এই আইসোটোপটির নাম- ‘লোহা-৬০’।
আরো পড়ুন : বাংলাদেশে আম্পায়ার উইলসনের টেস্ট অভিষেক
ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স (আইসিএসপি)-র কর্মকর্তা বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তীর মতে, এই ধরনের তেজস্ক্রিয় লোহাসহ ভারী মৌলগুলির জন্ম হয় কোনো তারার মৃত্যুর সময়। যখন ভয়ংকর বিস্ফোরণ বা সুপারনোভা হয়। তবে অসম্ভব তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলে সেই লোহা হয় খুবই ক্ষণস্থায়ী। জন্ম হয় বটে তাদের, কিন্তু খুব সামান্য সময়ের মধ্যেই সেই তেজস্ক্রিয় লোহা অন্য পদার্থে ভেঙে যায়। তাই পৃথিবীতে এর হদিশ পাওয়া সত্যিই কষ্টসাধ্য। তার মতে, এই তেজস্ক্রিয় লোহা পৃথিবীতে যেটুকু রয়েছে, তা রয়েছে মহাসাগরগুলির একবারে নিচে। যেগুলি সেখানে জমা হয়েছিল লাখ লাখ বছর আগে। আর রয়েছে চাঁদে। চাঁদের পিঠ বা লুনার সারফেসে। যেগুলি বহু বহু দিন আগে সৌরমণ্ডলের কোনো না কোনো প্রান্ত থেকে আছড়ে পড়েছিল চাঁদের পিঠে। -আনন্দবাজার
ইত্তেফাক/ইউবি

