ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রবিবার সকালে ঝড়ে গাছচাপা পরে অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে রাজাপুরের বিষখালি নদী তীরবর্তী এলাকা। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। বড়ইয়া ও মঠবাড়ি ইউনিয়নে শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষখালি নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বিষখালি নদী তীরবর্তী এই উপজেলায় ১১ হাজার দুইশ ৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হলেও কুড়ি শতাংশ ফসল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর। আগাম রবি ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিসহ ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। উপজেলা ব্যাপী কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি।তবে বিষখালি নদী তীরবর্তী এলাকা বড়ইয়া ও মঠবাড়ি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উপজেলার সকল গ্রামের কমবেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
উপজেলার ৬ নং মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিকদার জানান, এলাকায় কাচা ঘরবাড়ির ক্ষতি সবচেয়ে বেশি।এখানকার বেশিরভাগ ঘরবাড়িই হচ্ছে টিনের। আমার ইউনিয়নে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তাঘাটে গাছপালা পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এলাকার মাছের ঘেরগুলো সব ভেসে গেছে।
বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহআলম মন্টু বলেন, ইউনিয়নের হাজারেরও অধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মাছের ঘেরগুলোও ভেসে গেছে। তবে কোনো হতাহতের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: বুক চিতিয়ে লড়ে গেলো অপরাজেয় সুন্দরবন
উপজেলার নিন্মাঞ্চল ৩/৪ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ অবস্থান করছে। জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা একান্ত প্রয়োজন। ইতিমধ্যে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা রাস্তার-ঘাটে পড়ে থাকা গাছ অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। ঝড়ো হাওয়ার কারণে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হলেও ঝড় তীব্রতা কমে যাওয়ার পর আবার সঞ্চালন শুরু করতে পারেনি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহাগ হাওলাদার বলেন, রাজাপুর উপজেলার অধিকাংশ কাঁচা ঘর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ মাছের ঘের ও ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে কিছু এলাকায় সড়ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে গাছ সরিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু করতে কাজ শুরু হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসি
