রাজশাহী অঞ্চলে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকের ছড়াছড়ি

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২২:২৬

রাজশাহী অঞ্চলে সীমান্ত পথে ভারত থেকে বিপুল ছোটো আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক প্রবেশ করছে। এসব অস্ত্র বিভিন্ন রুট হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। নাশকতার কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র সীমান্ত পথে দেশে প্রবেশ করছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর ও জয়পুরহাট জেলায় গত ছয় মাসে পৃথক অভিযানে মোট ৫৪টি অস্ত্র, প্রায় ১৯ কেজি হেরোইন ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৭৮৩ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব-৫ এর সদস্যরা। এদের মধ্যে জেএমবির সক্রিয় সদস্যসহ অস্ত্র ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন।

র্যাব সূত্র জানায়, রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকের চালান ধরা পড়ছে। কয়েক মাসে তুলনামূলক বড়ো চালান ধরা পড়েছে। বড়ো চালানগুলোর বেশিরভাগই এসেছে শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে। এর মধ্যে গত ছয় মাসে রাজশাহী মহানগরী থেকেই ৯টি অস্ত্র এবং প্রায় ৬ কেজি হেরোইন ও বিভিন্ন ধরনের মাদকসহ ২০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে গত বুধবার রাতে পুঠিয়ার নামাজগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল,            একটি ওয়ান শ্যূটারগান, দুটি ম্যাগজিন, পাঁচটি গুলি এবং ২ হাজার ৬৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ শীর্ষ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী সুজন আলী ওরফে বাবুকে আটক করে র্যাব। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন র্যাব-৫ রাজশাহীর অধিনায়ক ডিআইজি মাহফুজুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজশাহী মহানগরী থেকে এ বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে বিদেশি পিস্তল আটটি, ওয়ান শ্যূটারগান একটি, ম্যাগাজিন ১৫টি, গুলি ৩১ রাউন্ড, হেরোইন ৫ কেজি ৯৪৬ গ্রাম, ফেনসিডিল ৪ হাজার ৪৩৫ বোতল, ইয়াবা ৫৬ হাজার ৫৭৯ পিস, গাঁজা ১৮১ কেজি ৮৭ গ্রাম, চোলাই মদ ২ হাজার ৯৪০ লিটার, বিদেশি মদ ২০৩ বোতল ও বিয়ার ২০ ক্যান। উক্ত ছয় মাসে মহানগরী থেকে ২০৭ জনকে বিভিন্ন অপরাধে আটক করা হয়। তিনি আরো বলেন, জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর ও জয়পুরহাটে পাঁচ জেলা থেকে উদ্ধার ৫৪টি অস্ত্রের মধ্যে বিদেশি পিস্তল ৩৩টি, রিভলবার চারটি, ওয়ান শ্যূটারগান ১৬টি, পাইপগান একটি এবং ম্যাগজিন ৫০টি ও গুলি ১৬৬ রাউণ্ড। এছাড়া এ পাঁচ জেলা থেকে এই ছয় মাসে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৭৮২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে জঙ্গি গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ জন, অস্ত্র ব্যবসায়ী ২৬ জন, মাদক ব্যবসায়ী ৬৭৩ জন, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ২৩ জন, জাল নোট চক্রের সদস্য তিন জন, অপহরণকারী চার জন, চোরাকারবারী চার জন, সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত অপরাধী দুই জন ও অন্যান্য অপরাধী ৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।