ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন রপ্তানি খাতে আয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশের বিভিন্ন রপ্তানি খাতের মধ্যে সম্প্র্রতি যুক্ত হয়েছে আইটি খাত। ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলাদেশ আইটি রপ্তানি শুরু করে। বাংলাদেশ খুব অল্প সময়ের মধ্যে আইটি খাত দ্রুত এগিয়ে গেছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রযুক্তি সেবা এবং সফটওয়্যার রপ্তানি করে ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। আশা করা হচ্ছে চলতি বছরে আইটি খাতে রপ্তানি আয় এক বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে। ২০২১ সালে এই আয় বৃদ্ধি পেয়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। দেশে বর্তমানে ১ হাজারেরও বেশি সফটওয়্যার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুধু সফটওয়্যার রপ্তানি করে প্রতি বছর ১০ কোটি ডলার আয় করছে বাংলাদেশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে ১০ বছরের ব্যবধানে সফটওয়্যার শিল্পে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। প্রতিদিনই এই খাতে রপ্তানি আয় ক্রমেই বাড়ছে। আমাদের আইটি খাতের এই অগ্রগতির পেছনে তরুণ উদ্যোমী প্রোগ্রামার ও ফ্রিল্যান্সারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। এশিল্পে নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সংযোজিত হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, সফটওয়্যার শিল্পের ব্র্যান্ডিং করে আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলছে বিভিন্ন উদ্যোগ।
সম্ভাবনাময় এই আইটি খাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে যাবে। আমাদের দেশের মতো জনবহুল দেশের মানুষকে এই খাতে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। মানবসম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কিত জ্ঞানও ক্রমেই বাড়ছে। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত আইটি খাত থেকে আয় করছে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। ভারতের তুলনায় আমাদের দেশের লক্ষ্যমাত্রা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আমাদের এই ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা বলেন, এই খাতে দক্ষ লোকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। মাত্র কয়েক হাজার গ্র্যাজুয়েট রয়েছে এই খাতে। এই খাতে শিক্ষিতের হার বাড়াতে হবে। অপর দিকে আমাদের দেশের সফটওয়্যরের ব্র্যান্ডিং হয়নি। অনেক দেশ জানেই না আমরা সফটওয়্যার রপ্তানি করছি। বিদেশের সফটওয়্যার বাজারে আমাদের সফটওয়্যার শিল্পের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অবগত করাতে হবে। বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন সফটওয়্যার মেলায় অংশ নিতে হবে। আমাদের দেশের বিভিন্ন বড়ো বড়ো প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সফটওয়্যার দিয়ে তাদের আইটি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আমাদের সফটওয়্যার শিল্পের ব্যাপারে সরকারও যথেষ্ট আন্তরিক আছে। এই শিল্পের ব্যাপারে সরকারি তরফ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই খাতে আরো দেড় লাখ প্রোগ্রামার ও ফ্রিল্যান্সার তৈরি হবে। আশার কথা দেশের প্রথম সারির আইসিটি কোম্পানিগুলো ৩০ এর অধিক দেশে আইসিটি পণ্য ও সেবা রপ্তানি করছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে আইসিটি প্রযুক্তি রপ্তানি করছে তাতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান এককভাবে বিলিয়ন ডলার আয় করতে সক্ষম হবে। সবদিক বিবেচনা করে একথা সহজে বলা যায়, বর্তমানে রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে আইসিটি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে।
n লেখক :বিমা কর্মকর্তা

