কাপাসিয়ায় শত শত একর ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে ইটভাটা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০৫

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্সসহ বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শত শত একর কৃষি জমিতে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ইটভাটায় ফসলি জমি ও এলাকার ছোটো-বড়ো টিলা কেটে মাটি নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। অনেক সময় জোর জবরদস্তি করে ফসলি জমির মাটি কেটে নিলেও প্রভাবশালী মহলের ভয়ে সাধারণ কৃষকরা মুখ খুলতে পারছে না। নিয়মনীতি না মেনে অবৈধ এসব ভাটায় ইট পোড়ানোর ফলে ব্যাপক বায়ুদূষণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে।

জানা যায়, ইটভাটা চালু করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইলেন্স নিতে হয়। এছাড়া গত ২০ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রচারিত ‘ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা সংক্রান্ত’ গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার ইট প্রস্তুত কার্যক্রমকে পরিবেশ সম্মতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) জারি ও কার্যকর করেছে। উক্ত আইনে নিম্নরূপ বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে—পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত/পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসককর্তৃক ইস্যুকৃত লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবেন না। আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা; সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর; সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি; কৃষিজমি; প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। নিষিদ্ধ এলাকার সীমারেখা হতে ন্যুনতম এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে; সরকারি বনাঞ্চলের সীমারেখা হতে দুই কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে; বিশেষ কোনো স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠান হতে এক কি.মি. দূরত্বের মধ্যেও ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইটভাটার মালিকরা এ আইন ও নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কাই করছেন না। কাপাসিয়া উপজেলায় প্রায় ৩৪টি ইটভাটা রয়েছে। উপজেলার কাপাসিয়া সদর, দুর্গাপুর, তরগাঁও, কড়িহাতা, সনমানিয়া, ঘাগটিয়া, রায়েদ, সিংহশ্রী ও টোক ইউনিয়নে রয়েছে এসব অবৈধ ইটভাটা। ইটভাটার মালিকরা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শত শত একর ফসলি জমি নষ্ট করে ইটভাটা তৈরি করছেন। তাছাড়া বনাঞ্চলের পাশে, লোকালয়, হাটবাজার ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশেও গড়ে উঠেছে বহু ইটভাটা। নদীর তীর দখল করেও অনেক ইটভাটা গড়ে উঠেছে। শত শত ড্রাম ট্রাক ও অবৈধ ট্রলি গাড়ি দিয়ে অনবরত ফসলি জমি ও টিলা কেটে মাটি এনে ইটভাটায় ইট তৈরি করা হচ্ছে। এতে করে এলাকার কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে ও স্থানীয় রাস্তাঘাটের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। অনেক ইটভাটায় লাকড়ি পোড়ানোর কারণে কালো ধোঁয়ায় এলাকার লোকজনের মধ্যে সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পরিবেশ দূষণের কারণে এলাকায় ফসলের উত্পাদনও ব্যাহত হচ্ছে। ইটভাটার আশপাশ এলাকায় নারকেল, সুপারি, কলা, ইক্ষুসহ নানান ফলদ গাছের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কাপাসিয়া উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সকল ইটভাটার সঠিক কাগজপত্র নেই। কিন্তু আমরা এরই মধ্যে অনেক টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছি, তাই আমাদের এ বছরটা সুযোগ দেওয়া হোক যাতে আগামীতে সবকিছু ঠিক করে নিতে পারি।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, নিয়মনীতি না মেনে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা চিহ্নিত করে সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হবে।