তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল

সরকারি জমি নিয়ে ১৯ বছর মামলা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:০৭

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ১ দশমিক ২৫ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও দুই মালিকের মধ্যে। সি এস ১৭৭ দাগের এই জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য এসএস কার সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানও। গণপূর্ত থেকে দাবি করা হচ্ছে অধিগ্রহণের মাধ্যমে এ জমির মালিক সরকার। অন্যদিকে এসএস কার সেন্টারের নামে জমি দখলকারী ব্যক্তির দাবি, তিনি ক্রয় সূত্রে এ জমির মালিক।

গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় উল্লিখিত দাগের ১ দশমিক ২৫ একর জমি মাদলেনা রোজারিওর কাছ থেকে অধিগ্রহণ করে ঢাকা জেলা প্রশাসক। সে সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ ধার্য করে তা পরিশোধও করা হয় প্রকৃত মালিককে। অধিগ্রহণের পরে শুধুমাত্র ১ দশমিক ২৫ কাঠা জমি ছাড়া অন্যান্য জমি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন। অধিগ্রহণ করা জমিসহ অন্য জমিতে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয় এই সম্পত্তি। তবে অধিগ্রহণকৃত সরকারের ব্যবহূত জমি ছাড়াও আট কাঠা জমির মধ্যে থেকে যায় ওয়েগা ফ্যাশন প্রাইভেট লিমিটেড। সেটির মালিকানাও গণপূর্তের দখলে রয়েছে। কিন্তু এর পাশেই ১ দশমিক ২৫ কাঠা জমির দখল রয়েছে সৈয়দা সাজেদা ও গিরিণ ঘোষের। যেখানে বর্তমানে রয়েছে এসএস কার পার্কিং নামে একটি গাড়ির গ্যারেজ।

গণপূর্তের দাবি, যেহেতু এটি সরকারি সম্পত্তি সেহেতু এই সম্পত্তি কারো দখল ও ক্রয় বিক্রয় করার এখতিয়ার নেই। তারপরও একের পর এক মামলা দায়ের করে জমি দখল ও অবৈধ মালিকানা দাবির মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। সৈয়দ সাজেদা ও গিরিণ ঘোষ জাল কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।

আরো পড়ুন: পরকীয়ার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে বিএনপির কায়সার কামাল

এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে আরো জানানো হয়, এই জমি নিয়ে গিরিণ ঘোষ বাদী হয়ে মামলা করলে প্রথমে সরকারের বিরুদ্ধে রায় হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সিভিল আপিল দায়ের করলে ২০০৬ সালে রায় হয় সরকারের পক্ষে। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন করলে সেখানেও সরকারের পক্ষে রায় বহাল থাকে। সেই অনুযায়ী এই জমির মালিক গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু পরবর্তীতে গিরিণ ঘোষ বাদী হয়ে ২০০৮ সালে মামলা করলে ঢাকার ষষ্ঠ যুগ্ম জেলাজজ আদালত ২০১১ সালে এ মামলায় সরকারের পক্ষে রায় দেয়। পরে গিরিণ ঘোষ বাদী হয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। আর সেখানে বিবাদী করা হয় রেলওয়েকে। পরে এই মামলায় গণপূর্ত অধিদপ্তরকে পক্ষভুক্তির আবেদন করা হয় অধিদপ্তর থেকে। কিন্তু আবেদন খারিজ হয়। সে মামলা এখনো চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ ৩ এর উপপ্রকৌশলী রকিবুল হাসান বলেন, জমি গণপূর্তের হলেও মামলার বাদী করা হয়েছে রেলওয়েকে। এছাড়াও চলমান রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিএমপি মামলা।

বর্তমানে দখলে থাকা গিরিণ ঘোষ বলেন, এ জমি নিয়ে বহু ঝামেলা রয়েছে। অনেক মামলা চলমান। এটি ভূমিদস্যুদের নজরে পড়েছে তাই এ অবস্থা। জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি এই জমি ক্রয় সূত্রে মালিক। আমার কাগজপত্র না থাকলে তো আর এর মালিকানা দাবি করতে পারি না। অন্যদিকে এই সম্পত্তির মধ্যে অবৈধভাবে স্থাপিত গেট ২০১৭ সালে তেজগাঁ থানা পুলিশের মাধ্যমে গণপূর্ত বিভাগ-৩ এটি অপসারণ করে।

এই জমি তাহলে কেন দখলে যাচ্ছে না গণপূর্ত অধিদপ্তর এ বিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর উপপ্রকৌশলী রকিবুল হাসান বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি। নির্দেশনা পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেব। আর বর্তমান মালিকানা দাবি করা ব্যক্তি অসামঞ্জস্য কথা বলছেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ