মানবতাবদী দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বরের জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কে বক্তারা বলেছেন, আরজ আলী মাতুব্বরের যুক্তনিভর ও সৎ জীবন আমাদের জন্য অনুসরণীয়। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে তার ১১৯তম জন্মোৎসব পালন করা হয়।
পঞ্চাশ জনেরও বেশি মুক্ত চিন্তার মানুষ আরজ আলী মাতুব্বরের জীবন ও কর্ম নিয়ে এক মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। সাংবাদিক তোফাজ্জল লিটনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেনঅধ্যাপপক মতলুব আলী, লেখক আহমাদ মাযহার এবং কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট জাকির হোসেন বাচ্চু। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জন্মোৎসব উদযাপন পরিষদ, নিউইয়র্ক।
স্বাগত বক্তব্যে জাকির হোসেন বাচ্চু আরজ আলী মাতুব্বরের সংক্ষিপ্ত জীবন ও তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। অধ্যাপক মতলুব আলী তার বক্তব্যে আরজ আলী মাতুব্বরের ধর্ম, জগৎ ও জীবন সম্পর্কে নানামুখী জিজ্ঞাসা নিয়ে আলোচনাকরেন।আহমাদ মাযহার আরজ আলী মাতুব্বরের জীবনাচরণ ও দর্শনের সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
মুক্ত আলোচনায় আরো মতামত ব্যক্ত করেন কলামিস্ট সুব্রত বিশ্বাস, সাংবাদিক ফাহমিদা শিল্পী, গবেষক জুয়েল মালিক, কথা সাহিত্যিক সুবক্তগীন সাকী, বদরুল চৌধুরী, চলচ্চিত্র নির্মাতা রওশন আরা নিপা।
গবেষক জুয়েল মালিক বলেন, আরজ আলী মাতুব্বরের যুক্তি নির্ভর ও সৎ জীবন সব সময়ের জন্য অনুসরণীয়। তিনি যা বলেছেন তা সততার সঙ্গে নিজের জীবনেও প্রযোগ করেছেন। বাংলার মাটি ও মানুষের চিন্তক দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর প্রচলিত ধারণাকে যৌক্তিক, কিন্তু শিশুসূলভ সরলতায় বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণে প্রশ্ন করেছেন, ভাবনার জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তাই তার এই প্রশ্ন আরো অধিক পাঠ দরকার।
আরজ আলী মাতুব্বর ১৯০০সালের ১৭ ডিসেম্বর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দার্শনিক, মানবতাবাদী, চিন্তাবিদ এবং লেখক ছিলেন। তিনি নিজ চেষ্টা ও সাধনায় বিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্ম ও দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। তার লেখা বইয়ের মধ্যে আছে সত্যের সন্ধানে(১৯৭৩) সৃষ্টির রহস্য(১৯৭৭) অনুমান (১৯৮৩) স্মরণিকা (১৯৮২) এবং ম্যাকগ্লেসান চুলা (১৯৫০) উল্লেখযোগ্য।
আরজ আলী মাতুব্বরের লেখায় উঠে এসেছে ধর্ম, জগৎ ও জীবন সম্পর্কে নানামুখী জিজ্ঞাসা। তিনি তার অর্জিত সম্পদ দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘আরজ মঞ্জিল পাবলিক লাইব্রেরি’। তিনি ১৯৮৫ সালের ১৫ মার্চ বরিশালে মারা যান।
ইত্তেফাক/বিএএফ
