ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গেল ক্ষমতাসীন বিজেপি। আঞ্চলিক দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও জাতীয় কংগ্রেসের জোট এখানে সরকার গড়বে। পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে গণমাধ্যম এনডিটিভিকে সোমবার সাক্ষ্যাৎকার দেন হেমন্ত সরেন। এসময় তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল বিজেপি বরাবর আপনার বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ এনেছে। সে ব্যাপারে হেমন্ত সোরেন বলেন, ‘মুচির ছেলে মুচি হলে কোনও অসুবিধা নেই! তাহলে বাঘের বাচ্চা তো বাঘই হবে।’
সোরেন বলেন, ‘মানুষ মরছে। নোটবন্দির সময় কত মানুষ লাইন দাঁড়াতে গিয়ে মারা গেছেন। আপনাদের আইনে (পড়ুন বিজেপি) মানুষ মরছে। তখন কাউকে তো দায়িত্ব নিতেই হবে। শুধু মুসলিমরা না, জনগণকে আবার লাইনে দাঁড়াতে হবে এটা প্রমান করতে যে তারা ভারতীয়। এদেশে অনেক কৃষক আছেন। তারা পেটের ভাত জোগাড় করবে না কাগজ জোগাড় করবে?’
মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি কোন কোন পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন দাবি, ‘এভাবে বললে মানুষকে বোকা বানানো হবে। একজন মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনা অনেক বড় হবে। ঝাড়খণ্ডের সব প্রতিকূলতাকে দূর করার চ্যালেঞ্জ নেবো। জঙ্গল হোক, গ্রাম হোক বা শহর; উন্নয়ন হবে সার্বিক’।
আরও পড়ুন: জন্মগতভাবে আমি পিঞ্চ হিটার: মেহেদি
ইতিমধ্যে ট্রেন্ড চূড়ান্ত করে দিয়েছে ক্ষমতা হারাচ্ছে বিজেপি জোট। হার স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস। দলের পক্ষে অমিত শাহও হার স্বীকার করেছেন। বিরোধী জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি জোটকে টুইট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
I thank the people of Jharkhand for having given @BJP4India the opportunity to serve the state for many years. I also applaud the hardworking Party Karyakartas for their efforts.
— Narendra Modi (@narendramodi) December 23, 2019
We will continue serving the state and raising people-centric issues in the times to come.
তিনি লিখেছেন, ‘আমি ঝাড়খণ্ডবাসীকে ধন্যবাদ জানাই বিজেপিকে গত পাঁচ বছর ধরে সেবা করার সুযোগ দেওয়ায়। পাশাপাশি দলের সব সদস্যদের তাদের কঠোর শ্রমের জন্য বাহবা জানাই।আমরা সে রাজ্যের উন্নয়ন চালিয়ে যাবো এবং জনদরদী প্রকল্পকে তুলে ধরবো।’
এছাড়া এই ফল স্পষ্ট হতেই হেমন্ত সোরেন ও তার দলের নেতৃত্বাধীন জোটকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ট্যুইট করে মমতা লিখেছেন, ‘ঝাড়খণ্ডের মানুষ তাদের ইচ্ছে পূরণের জন্য আপনাদের উপর আস্থা রেখেছে। ঝাড়খণ্ডের সব ভাই ও বোনেদের জন্য রইল আমার শুভকামনা। সিএএ ও এআরসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মধ্যেই সেখানে নির্বাচন হয়েছে। এই রায় জনগণের পক্ষে গিয়েছে।’
ইত্তেফাক/বিএএফ
