ঠাকুরগাঁও-৩ : মহাজোট প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী শরীক দলের প্রার্থীরা

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৪:৪৫

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে। দিনরাত চলছে মাইকযোগে প্রচার-প্রচারণা। গ্রাম-গঞ্জ-শহরের রাস্তাঘাট ছেয়ে গেছে পোস্টারে পোস্টারে। এ আসনে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বর্তমান এমপি ইয়াসিন আলী মহাজোট প্রার্থী। তিনি ‘নৌকা’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

তবে মহাজোটের প্রধান শরীক আওয়ামী লীগের জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি ইমদাদুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘মটরগাড়ি’ প্রতীকে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পুজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি অধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র রায় ‘সিংহ’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নৌকার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমদাদুল হকের সমর্থনে কাজ করছে পীরগঞ্জ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন সমূহ এবং রাণীশংকৈল উপজেলার তৃণমূলের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। তাঁর সমর্থকরা প্রতিদিন সন্ধ্যায় পীরগঞ্জ পৌর শহরে মিছিল করে ভোট প্রার্থনা করছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে প্রচার প্রচারণায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে মটরগাড়ী।

আর অধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র রায়ের প্রধান শক্তি হচ্ছে পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। দূর্গোৎসব পরবর্তী পূজা পূনর্মিলণীতে তাদের সমর্থন নিয়ে তিনি ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। এ আসনে প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভোট অমুসলিম হওয়ায় তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। মহাজোটের অন্যতম শরীক জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি ও সাবেক এমপি হাফিজ উদ্দীন আহম্মেদও দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর নির্দেশে এ আসনে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রচার-প্রচারণায় তাঁর কর্মী বাহিনীর বহর ও বাহার নজর কারার মত। ফলে মহাজোটের শরীক দলের ৩ প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণার তোড়ে মহাজোটের নৌকা তীরে আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ আসনে ১ লক্ষ ৫২ হাজার ১৫৬জন পুরুষ ভোটার ও  ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ১৮জন মহিলা ভোটার মিলে মোট ভোটার ৩ লক্ষ ১৭৪ জন। এ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান এমপি ইয়াসিন আলী নৌকা প্রতীক পাওয়ার দিনে পীরগঞ্জে প্রচারণায় নেমেই স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তোপের মুখে পড়েন। এর তিন/চারদিন পরেই সৈয়দপুর ইউনিয়নের ভুরভুসিকালিতে নির্বাচনী প্রচার করতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে নির্বাচনী প্রচারে বাধার সম্মুখিন হন মহাজোট প্রার্থী। এ ব্যাপারে তিনি গত ১৫ ডিসেম্বর পীরগঞ্জের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। তার পর থেকে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে এবং সব প্রার্থী মাইক ও পোস্টার যোগে প্রচার-প্রচারণা পাশাপাশি নির্বিঘ্নে গণসংযোগ চালাতে থাকে।

তবে ২০ দলের প্রার্থী বিএনপির উপজেলা সভাপতি জাহিদুর রহমান ও তাঁর কর্মী বাহিনী প্রচার প্রচারণায় যথেষ্ঠ কৌশলী। তাদের শহরে বিচরণ কম। কিন্তু গ্রামে গ্রামে তাদের উপস্থিতি ও ধানের শীষের প্রতি সহানুভুতি কামনা লক্ষ্যনীয়।

আরো পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১: মির্জা ফখরুলের সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রমেশ সেন

এছাড়াও সিপিবি’র প্রভাত সমীর শাহজাহান আলম তরুণ সমাজের নিকট পরিচিত মুখ। তিনি ‘কাস্তে’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। ইসলামী আন্দোলনের নাজিম উদ্দীন আহম্মেদ চরমোনাই’র পীর সাহেবের মুরিদদের কর্মী বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাঁর প্রতীক ‘হাতপাখা’। ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির জেলা সভাপতি শাফি আল আসাদ মাইক যোগে ও পোস্টার টাঙ্গিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি লড়ছেন ‘আম’ মার্কা নিয়ে। তবে এসব প্রার্থীর অনেককেই গ্রাম এলাকার বেশীর ভাগ সাধারণ ভোটার চিনেন না। সর্বোপরি ১৩৫টি ভোট কেন্দ্রে গড়ে ৪ জন করে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার মত নিবেদিত প্রাণ কর্মীও কোন কোন প্রার্থীর নেই।

ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ