ছোটোদের ভালো ফলে উচ্ছ্বাস দেশ জুড়ে

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২০, ০২:২৮

জেএসসি ও জেডিসি, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার ফল গতকাল মঙ্গলবার একসঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় অর্ধকোটি পরিবারে এখন উচ্ছ্বাস। আর স্কুলে স্কুলে বইছে আনন্দের বন্যা। ভালো ফল করে নেচে-গেয়ে উত্সব করছে শিক্ষার্থীরা।

এবার জেএসসিতে পাশের হার ও জিপিএ-৫ বেড়েছে, জেডিসিতে পাশের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫। এছাড়া প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে পাশের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে।

সকালে গণভবনে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলের অনুলিপি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। পরে দুটি মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে।

তথ্য অনুযায়ী, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় এবার পরীক্ষার্থী ছিল ২৬ লাখ ২ হাজার ৫৩ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ২২ লাখ ৯৭ হাজার ২৭১ জন। পাশের হার ৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ। গতবার পাশ করে ৮৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গতবারের চেয়ে পাশের হার বেড়েছে ২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৮ হাজার ৪২৯ জন। গতবার এই সংখ্যা ছিল ৬৮ হাজার ৯৫ জন। বেড়েছে ১০ হাজার ৩৩৪টি।

অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় পাশের হার ৯৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। গতবার প্রাথমিক সমাপনী পাশ করেছিল ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমেছে পাশের হার। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৮ জন। গতবার এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৩। সে হিসাবে জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও কমেছে।

ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইবিটি) পরীক্ষায় পাশের হার ৯৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। গতবার ইবতেদায়িতে এই হার ৯৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ পাশের হার কমেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৭৭ জন। গতবার এই সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ২৬৮। এখানেও কমেছে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা।

প্রতিবারের মতো এবারও শহরের স্কুলগুলো ভালো ফল করেছে। পিছিয়ে পড়েছে গ্রামের স্কুলগুলো। গতকাল দুপুরে ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভালো ফল করা স্কুলগুলোতে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। বাদ্য বাজিয়ে, হাতে হাত রেখে নেচে-গেয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকেরা। দুপুর ১২টার পরেই ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়। মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও পরীক্ষার ফল জানা গেছে। প্রায় সবাই মোবাইল এসএমএস ও ওয়েবসাইট থেকে ফল সংগ্রহ করেন। তবে এভাবে ফল জানতে গিয়ে ভোগান্তির শিকারও হতে হয় তাদের।

আরও পড়ুন: স্বপ্ন আর দিনবদলের অপরিমেয় প্রাত্যাশায় নববর্ষের যাত্রা শুরু

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে গতবারের চেয়ে খারাপ ফলের কারণ হিসেবে সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, এবার এক উপজেলার খাতা অন্য উপজেলায় মূল্যায়ন হয়েছে। এ কারণে মূল্যায়নে আরো স্বচ্ছতা এসেছে। এ কারণে হয়তো গতবারের চেয়ে কিছুটা খারাপ হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, সমাপনী পরীক্ষা একটু সহজ করা যায় কীভাবে, যাতে শিশুদের টানাহেঁচড়া না থাকে সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।

জেএসসি

এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেএসসিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ লাখ ২১ হাজার ৫৯১ জন, যা গত বছর ছিল ২২ লাখ ১৬ হাজার ৯৬১ জন। এবার পাশ করেছে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৮ জন। জেএসসিতে পাশের হার ৮৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৬ হাজার ৭৪৭ জন, গতবার ছিল ৬৬ হাজার ১০৮ জন, বেড়েছে ১০ হাজার ৬৩৯ জন।

জেডিসি

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন জেডিসিতে পরীক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪৪২ জন। পাশ করেছে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৩ জন। জেডিসিতে পাশের হার ৮৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। এবার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৬৮২ জন, গত বছর ছিল ১ হাজার ৯৮৭ জন, কমেছে ৩০৫ জন।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি)

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ১৫১ জন। এরমধ্যে ছাত্র ১১ লাখ ২৪ হাজার ২২৫ জন এবং ছাত্রী ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৯২৬ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে সব বিষয়ে পাশ করেছে ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৪৩ জন। পাশের হার ৯৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৮ জন। এরমধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫১ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৭ জন।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাশের হার বিবেচনায় আট বিভাগের মধ্যে বরিশাল বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। এ বিভাগে পাশের হার ৯৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে গাজীপুর। এ জেলায় পাশের হার ৯৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। ৫১০টি উপজেলার মধ্যে ভোলার দৌলতখান উপজেলায় শতভাগ পাশ করেছে।

ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইবিটি)

ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইবিটি) পরীক্ষায় এবার মোট অংশ নিয়েছে ৩ লাখ ৪ হাজার ১৭৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৩৬ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪২ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে সব বিষয়ে পাশ করেছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৮৭৫ জন। পাশের হার ৯৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ইবিটি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৭৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৬৮৫ জন এবং ছাত্রী ৬ হাজার ১৯২ জন।

এবার পাশের হার বিবেচনায় ইবতেদায়িতে আট বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগ শীর্ষে। এ বিভাগের পাশের হার ৯৭ দশমিক ৮১ শতাংশ। ইবতেদায়ি পরীক্ষায় দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে নওগাঁ জেলায় শতভাগ পাশ করেছে। দেশের ৫১০টি উপজেলার মধ্যে ৮৩টি উপজেলায় শতভাগ পাশ করেছে।

ইত্তেফাক/ইউবি