ইরান কত দ্রুত পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারবে

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২৫

মার্কিন হামলায় ইরানের জনপ্রিয় জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে আশঙ্কা করা হচ্ছে আরেকটি যুদ্ধের। কারণ সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরান। এমন অবস্থায় ইরানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইতোমধ্যে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তার কোনটিই তারা আর মেনে চলবে না। ইরানের মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ইরান কি তাহলে এখন পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে হাত দিতে চলেছে? যদি তারা চুক্তি থেকে বেরিয়ে পুরোদমে পরমাণু কর্মসূচি চালাতে থাকে, তাহলে কত দ্রুত তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে?

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে চুক্তিটি করা হয়েছিল। ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেজন্যেই তাদের সঙ্গে চুক্তিটি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়া, চীনসহ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো। চুক্তির মূল উদ্দেশ ছিল- ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক তদারকিতে রাখা। 

কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় এই চুক্তিকে ‘বাজে চুক্তি’ বলে আসছেন। এমন অবস্থায় ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণার পর তা ভেঙ্গে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।


ছবি: বিবিসি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরমাণু চুক্তিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল- মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের শঙ্কা দূর করা। কারণ এই চুক্তির আগে আশঙ্কা ছিল, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঠেকানোর নামে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেল, তখন থেকে ইরান এই চুক্তিতে আরোপ করা বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে চলেছে।

কিন্তু সোলেইমানিকে হত্যার পর ঘটনা এখন অন্যদিকে মোর নিয়েছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ইরান এখন তাদের পরমাণু কর্মসূচিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে?  তারা কি ইউরেনিয়াম পরিশোধন ২০ শতাংশের উপরে নিয়ে যাবে?

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরেনিয়াম পরিশোধনের মাত্রা বাড়িয়ে পরমাণু অস্ত্রের উপকরণ পেতে ইরানের সময় লাগবে বড়জোর এক বছর। ইরান যদি এখন সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে, তাহলে বোমা তৈরির উপকরণ পেতে তাদের অনেক কম সময় লাগবে। 

২০১০ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে ২০১৫ সালে পরমাণু চুক্তির পর এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।

চুক্তিতে বলা ছিল, ইরানের ইউরেনিয়াম পরিশোধনের মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে ‘হেভি ওয়াটার রিয়েক্টর’ নতুন করে তৈরি করতে হয়। 

পরমাণু অস্ত্র তৈরি এবং পরমাণু জ্বালানি- উভয় ক্ষেত্রেই পরিশোধিত ইউরেনিয়াম দরকার হয়। আর পরমাণু বোমার আরেকটি উপাদান প্লুটোনিয়াম পাওয়া যায় রিয়েক্টরে ব্যবহৃত জ্বালানি থেকে।


ইরানের মিসাইল টেস্ট। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের আগে ইরানের কাছে পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের বিরাট মওজুদ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ হাজার সেন্ট্রিফিউজেস ছিল তাদের। যা ১০টি পরমাণু বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি সব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ইউরেনিয়াম পরিশোধনের মাত্রা ২০ শতাংশে উন্নীত করে, তাহলে ছয় মাস বা তারও কম সময়ের মধ্যে ইরান পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারবে।

তবে বর্তমানে যেহেতু আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের কারণে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত, তাই বোমা তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেও ইরানের সময় লাগবে অনেক বেশি।

এরই মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি হুমকি দিয়েছেন ইউরেনিয়াম পরিশোধন আবার শুরু করবেন বলে। তবে পরমাণু চুক্তির অন্য দেশগুলো আশা করছে ইরান ঐ পথে যাবে না।

ইত্তেফাক/জেডএইচ