হাঁকডাক ‘একদাম, বাইছা লন’
মো. আবু হানিফ, শেকৃবি সংবাদদাতা
নামে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হলেও মানে এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উঠেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা দর্শনার্থীরা।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোতে দেশি বিক্রেতারা দেশীয় পণ্য বিক্রি করছেন। আবার এক দেশের প্যাভিলিয়নে রয়েছে আরেক দেশের পণ্য। এবার মেলায় বাংলাদেশসহ ২১টি দেশের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও কিছু ভারতীয়, পাকিস্তানি ও তুর্কি বিক্রেতাদের দেখা মিলছে। ইরানি ও থাই প্যাভিলিয়নেও দেখা গেছে দেশি বিক্রেতারা দেশি বিদেশি পণ্য মিলিয়ে বিক্রি করছেন। থাই প্যাভিলিয়নের এক দেশি বিক্রেতা বলেন, ‘বিদেশিরা বরাদ্দ নিয়ে আমাদের কাছে স্টল বিক্রি করেছে তাই আমরা দেশি পণ্য বিক্রি করছি। তবে এখানকার অনেক পণ্যই সরাসরি বিদেশ থেকে আনা।’ বিদেশি প্যাভিলিয়ন ৫, ৬ ও ১৫ ঘুরে দেখা যায় স্টলগুলো দেশি পণ্যে সয়লাব। এখানকার বিক্রেতাদেরও দাবি বিদেশিরা বরাদ্দ নিয়ে তাদের কাছে স্টল বিক্রি করেছেন। দেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একাধিক বিদেশি প্যাভিলিয়নে নিম্নমানের পণ্যের পসরা সাজিয়ে দেশি বিক্রেতারা হাকডাক ছেড়ে ক্রেতা আকর্ষণ করছেন। ফার্মগেট বা গুলিস্তানের ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের মতো একদাম, বাইছা লন এমন করে ডাকছেন ক্রেতাদের।
এছাড়া এখনো মেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে স্টল প্রস্তুতির কাজ। হাতুড়ি ও পেরেকের শব্দে বিরক্ত হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। সবুজ মণ্ডল নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘মেলার ১৮তম দিনেও স্টল প্রস্তুত করা দেখে অবাক হলাম। নামমাত্রই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এখানে শুধু দেশি ক্রেতা-দর্শনার্থীরাই আসেন না, বিদেশিরাও আসেন। মেলা আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে এসবের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
সুমাইয়া জাহান নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘মেলায় আগ্রহ নিয়ে এসেছিলাম। তবে এখানে গুলিস্তানের মতো হাকডাক দিয়ে ১৩০/১৫০ টাকায় পণ্য বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি স্টলে দেশি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এটা প্রতারণা করা হচ্ছে আমাদের সাথে। অনেক পণ্য ১০০০ টাকা দাম চাইলেও কষাকষি করে তা ৫০০/৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিম্নমানের হকারি পণ্য কিনতে হলে টিকিট কেটে মেলায় এসে কী লাভ?’
মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও ইপিবি কর্মকর্তা আব্দুর রউব জানান, ‘মেলার মান বৃদ্ধিতে গতবছরের তুলনায় স্টল কমানো হয়েছে। বিদেশি প্যাভিলিয়নে দেশি পণ্য বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি, এটা কাম্য নয়। মেলায় নিম্নমানের পণ্য বিক্রি হলে ভোক্তা অধিদপ্তর ব্যবস্থা নেবে।’

