আমাদের দেশের মুদ্রার নাম টাকা। এক সময় টাকাকে বলা হতো টঙ্ক। এই টঙ্ক থেকেই টাকা হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ অর্থসচিব কে এ জামান স্বাক্ষরিত এক টাকার একটি নোট বের হয়। এটিই বাংলাদেশের প্রথম এক টাকার নোট। এই নোটে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র। ১৯৭৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাজারে আসা মতিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক টাকার নোটে রয়েছে ঢেকিতে ধান ভাঙার দৃশ্য। নোটটির নকশাকার শিল্পী কে জি মুস্তফা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ও বাংলাদেশের মানচিত্রের ছবি দিয়ে পাঁচ টাকার একটি নোট বের হয় ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ। এতে স্বাক্ষর করেছেন এ এন হামিদ উল্লাহ। ঐ একই তারিখে এ এন হামিদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত দশ টাকা ও এক শত টাকার নোটে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের মানচিত্র মুদ্রিত হয়েছে। এরপর একাধিক গভর্নর স্বাক্ষরিত পাঁচ টাকা থেকে পাঁচ শত টাকার ব্যাংক নোট বের হয়। পরবর্তীকালে বাজারে আসে এক হাজার টাকার নোট। বর্তমানে এক টাকার নোট আর মুদ্রণ করা হয় না। দুই ও পাঁচ টাকার নোটে স্বাক্ষর করেন অর্থ সচিব আর দশ থেকে এক হাজার টাকার ব্যাংক নোটে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। বাংলাদেশের এক টাকা থেকে এক হাজার টাকার সমস্ত নোট বিশ্বের সকল মুদ্রা জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল ব্যাংক নোট সংগ্রাহক বাংলাদেশের দৃষ্টিনন্দন ব্যাংক নোট সংগ্রহ করছেন।
একটি ব্যাংক নোট একটি ইতিহাস। ব্যাংক নোট সংগ্রহ করা মানে ইতিহাস সংগ্রহ করা। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের পাঁচটি স্মারক নোট বেরিয়েছে। সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ২৫ টাকার একটি স্মারক নোট বের করা হয়। বাংলাদেশের বিজয়ের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বেরোয় ৪০ টাকার একটি স্মারক নোট। ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ৬০ টাকার স্মারক নোট রয়েছে। উন্নয়ন অভিযাত্রায় বাংলাদেশের সাফল্য উপলক্ষ্যে রয়েছে ৭০ টাকার স্মারক নোট। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে ১০০ টাকার স্মারক নোট প্রকাশ করা হয়। উল্লিখিত স্মারক নোটগুলো সংগ্রহযোগ্য। সমস্ত ব্যাংক নোট ও স্মারক নোট রয়েছে টাকা জাদুঘরে। এর অবস্থান ঢাকার মিরপুর-২, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির দ্বিতীয় তলায়। শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টাকা জাদুঘর খোলা সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার বন্ধ। শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা। এই জাদুঘরে সারা পৃথিবীর ব্যাংক নোট, ধাতব মুদ্রা ও বিলুপ্ত ব্যাংক নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রদর্শিত হচ্ছে। টাকা জাদুঘর পরিদর্শনে কোনো প্রবেশ ফি লাগে না।

