শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নারী ফুটবলে পাওয়ার হাউজ বসুন্ধরা কিংস

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২৭

সোহেল সারোয়ার

সাবিনা, কৃষ্ণা, সানজিদা, তহুরা, মনিকাদের ঘরবাড়িটাই ছিল বাফুফে ভবন। এখানেই বছরের বেশির ভাগ সময় কাটে তাদের। বছর জুড়ে ক্যাম্প হয়। বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই দেখা করতে বাফুফে ভবনে যান। সেই সাবিনা, কৃষ্ণা, সানজিদারা কাল ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বাফুফে ভবনে গিয়েছিলেন। ঢাকঢোল বাদ্য বাজিয়ে এলাকা গরম করে দিয়েছেন বাদকরা। বসুন্ধরা কিংস এমন আয়োজন করল যেন নারী ফুটবলে একটা ঝাঁকুনি আসে। এটা না করলেও পারতেন তারা। হইহুল্লোড় করে এভাবে আর কোনো দল আসেনি। অন্যান্য ক্লাব যেন এমন উত্সবমুখর ফুটবল পরিবেশ তৈরি করে সেই বার্তাই দিল বসুন্ধরা কিংস।

নারী ফুটবল লিগ শুরু হবে কয়েক দিন বাদেই। আট দল খেলবে লিগে। ডাবল লিগ খেলা হবে। একটি দল ১৪টি ম্যাচ খেলবে।

গতকাল ছিল নারী ফুটবল লিগের খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন। বসুন্ধরা কিংস খেলোয়াড়দের নিয়ে ফুটবল ভবন সরগরম করে দিয়েছিল। জাতীয় দলের ১৯ ফুটবলার নিয়েছে তারা। এক কথায় নারী ফুটবলে পাওয়ার হাউস এখন বসুন্ধরা কিংস। চ্যাম্পিয়ন এখনই বলা যায়। অথবা ট্রফি হতে এক হাত দূরে। কারণ তাদের সামনে আর কেউ নেই যারা এতটা শক্তি নিয়ে দল গঠন করেছে। একেবারে পেশাদারি প্রথায়। বাফুফের মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ বললেন, ‘এটি একটি মেমোরেবল দিন। একদিন এই মেয়েরা এএফসি কাপ ফুটবলে খেলবে। আমার মনে হয়, বসুন্ধরা কিংস সেই দলটা হতে পারে। বসুন্ধরা কিংসের পেশাদার মনোভাব আমাদের ভালো লেগেছে। তারা প্রথম থেকেই পেশাদার মনোভাব নিয়ে এই পর্যন্ত এসেছে।’ প্রিমিয়ার লিগের ১৩ ক্লাবের মধ্যে লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস নারী ফুটবলে দল গঠন করেছে। বাকি সব ক্লাব এগিয়ে আসেনি। নারী ফুটবলে দল গঠন করা বাধ্যতামূলক না হলেও দায়িত্ববোধ থেকে হলেও নারী ফুটবলে দল গড়তে পারত ক্লাবগুলো। যারা ক্লাবের দায়িত্ব আছেন এবং বাফুফের বড়ো বড়ো চেয়ারে রয়েছেন,  তারা নারী ফুটবলে দল গড়বেন এটাই স্বাভাবিক। তারপরও সেদিকে নজর নেই। আগের মতোই মোহামেডান, আবাহনী, শেখ জামাল দল গড়তেই পারত। সাইফ স্পোর্টিং, চট্টগ্রাম আবাহনী, শেখ রাসেল কেন মুখ ঘুরিয়ে রাখল তা বুঝা গেল না। উদাহরণ তৈরি করেছে বসুন্ধরা কিংস।

ছয় বছর পর লিগ হবে, বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান দুঃখ করে বলছিলেন তারা ছাড়া প্রিমিয়ার লিগে আর কোনো দল খেলছে না। তিনি প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোকে অনুরোধ করে বলেছেন, তারা যেন আগামীতে দল গঠন করে। আর বাফুফেকে অনুরোধ করে বলেছেন, ‘লিগটা যেন নিয়মিত হয়।’ কিরণ বললেন, ‘একাধিকবার লিগের ডেট দেওয়া হয়েছে। সাড়া পাইনি।’ বাফুফের সভাপতির কাজী সালাহউদ্দিনের উদ্ধৃতি সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বাফুফেকে বললেন, ‘সার্ভিসেস দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা আগ্রহীও হয়েছিল। কিন্তু পরে আর আসেনি।’

কিরণ বললেন, ‘আমরা ওপেন করে দিয়েছি। খেলোয়াড়দের নিয়ে পুল করিনি।’ সেই সুযোগটা নিয়ে বড়ো বাজেটের দল গড়েছে বসুন্ধরা। পুল করলেও কিছু করার ছিল না কারণ বাকি কিছু দল আছে যারা বড়ো বাজেটও খরচা করতে পারবে না। দেখা যেত জাতীয় দলের খেলোয়াড় দলই পায়নি। একবার আবাহনীর গোলপিকপার বিপ্লব পুলের ফাঁদে পড়ে বড়ো দল পাননি। শেষ পর্যন্ত ফরাশগঞ্জে খেলতে হয়েছিল তাকে।

১৯ ফুটবলার ছাড়াও বসুন্ধরার ঘরে আরো বেশি সংখ্যক ফুটবলার নেওয়া হয়েছে। নারী ফুটবলে এক সময় সাড়া জাগিয়ে ছিলেন পিংকি। সেই পিংকি এখন বসুন্ধরার ম্যানেজার হয়েছেন।