চীন থেকে শুরু হয়ে করোনা ভাইরাস এখন পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসকে ‘মহামারি’ ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ইতালিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। ঘরে ঘরে শুধু স্বজন হারানোর কান্না। ইতালির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মাত্র একদিনে (শুক্রবার) সেখানে মৃত্যু হয়েছে ২৫০ জনের, সব মিলিয়ে সেদেশে মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে। খবর: এনডিটিভি।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তার দেহের শেষকৃত্য করার জন্যে বাইরেও বেরোতে পারছেন না তার ঘনিষ্ঠরা। কারণ একটাই, যিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার সংস্পর্শে আসা স্বজনকে তো কোয়ারান্টাইন করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাবুন একবার কী পরিস্থিতি!
আরও পড়ুন: শরীরের বিশেষ অংশ দান করতে চান অভিনেত্রী রাখি
ইতালিবাসী লুকা ফ্রাঞ্জির সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এই করুণ আর্তনাত পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার বোন মারা গেছেন। তিনি দুই দিন ধরে তার দেহ নিয়ে বাড়িতে বসে আছেন। বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।
লুকা ফ্রাঞ্জি জানান, ‘আমার বোন মারা গেছে। কী করব! আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি তাকে তো এভাবে ফেলে রাখতে পারি না, কিন্তু কী করব, এখানে আমি একা রয়েছি।’ ওই ভিডিওতে বিছানায় শুয়ে থাকা তার বোনের দেহও দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘বাড়িতে বসে নামাজ পড়ুন’, আজানে মুয়াজ্জিন
মনে করা হচ্ছে, প্রশাসনের তরফ থেকে ওই পরিবারের অন্য সদস্যরাও এই রোগে ভুগতে পারেন বলে লুকার পরিবারকে কোয়ারান্টাইন বা সকলের থেকে আলাদা করে রেখেছে। যদিও পরে জানা যায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ লুকার বোনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সহায়তা করেছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
