রাস্তায় বের হলেই পিটুনি দিচ্ছে পুলিশ। থাকার ঘর নেই, খাওয়ার কিছু নেই। কীভাবে চলবে তাদের জীবন? ফলে বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন ভাসমান যৌনকর্মীরা। খাবারের আশায় রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে তাদের বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দুর্জয় নারী সংঘ’। নিয়ম না থাকলেও বিপদের এই সময়ে তাদের অফিসে অনেক যৌনকর্মী আশ্রয় নিয়েছেন। তবে খাবারের সংকটে রয়েছেন তারা। এখনো সরকারি বা বেসরকারি—কোনোভাবেই তাদের কাছে খাবার পৌঁছেনি। যৌনকর্মীদের কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকজন ভাসমান যৌনকর্মী বর্তমান পরিস্থিতিতেও পেটের দায়ে রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু পুলিশ তাদের পিটিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে। ফলে তারা রাস্তায় থাকতে পারছেন না। এই ‘অলিখিত লকডাউনের’ সময় পেটের ক্ষুধা তারা কীভাবে নিবারণ করবে?
বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, দেশে প্রায় ২ লাখ নারী ও কিশোরী যৌনকর্মী রয়েছেন। তাদের নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা বলছেন, এদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সংক্রমণের কথাও ভাবতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশি অথবা স্পর্শের মাধ্যমে করোনা ছড়ায়। আর সেখানে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে যে কেউ রোগাক্রান্ত হতে পারেন। বিষয়টি মাথায় রেখেই যৌনকর্মীদের মধ্যেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি তাদের খাওয়া থাকারও ব্যবস্থা করতে হবে।
করোনার বিস্তৃতি ঠেকাতে প্রশাসনের নির্দেশে এর মধ্যে দৌলতদিয়া যৌনপল্লি লকডাউন করা হয়েছে। সেখানকার যৌনকর্মীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া দেশের আরো ১১টি যৌনপল্লির যৌনকর্মীরাও অনেকটা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তারা কীভাবে জীবনধারণ করবে—এ নিয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনার কথা এখনো শোনা যায়নি। যৌনপল্লির বাইরে ঢাকাসহ দেশে অনেক ভাসমান যৌনকর্মী রয়েছে, তাদের কথাও বিবেচনায় আসেনি? বলা হয়, শুধু ঢাকাতেই লক্ষাধিক ভাসমান যৌনকর্মী আছেন।
দুর্জয় নারী সংঘের প্রেসিডেন্ট রহিমা বেগম জানিয়েছেন, তাদের অফিসে যৌনকর্মীদের থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু এই বিপদের সময়ে কয়েকজনকে তারা আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু তাদের খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো সংগঠন থেকেও তাদের খাবার দেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক কর্মী ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন। এখন আর সন্ধ্যার পর না, দিনের বেলায়ও তারা রাস্তায় থাকছেন। সন্ধ্যার পর রাস্তায় কোনো মানুষ থাকে না। ফলে তাদের কোনো কাস্টমার না থাকায় উপার্জন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এখন শুধু খাবারের জন্যই তারা যুদ্ধ করছেন। অনেকের বাড়ি ঘর আছে, আছে পরিবার। কিন্তু কোনো সঞ্চয় না থাকায় খাবারের জন্য তাদের পথে নামতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার আশায় আছেন তারা।
