করোনায় ব্যবহৃত মাস্ক এবং গ্লাভসে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়েছে সামুদ্রিক জীবনে

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২০, ২১:২৫

পরিবেশবিদরা সতর্কতা জানিয়ে বলছেন, করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে যে মাস্ক ও হাত গ্লাভস ব্যবহার করা হচ্ছে তা প্লাস্টিক দূষণের মতোই পরিবেশে যুক্ত হয়েছে। যা সমুদ্র উপকূলের জীবনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কোভিড-১৯ কোনো লক্ষণ ছাড়াই ভাইরাসটি সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে ছড়াতে পারে এমনটি জানিয়ে সাধারণ মানুষকে কাপড়ের মাস্ক পরতে পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মাস্ক পরা আবশ্যক নয়। এবং তাকেও মাস্ক পরতে দেখা যায়নি কখনও।

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য তৈরি মাস্কগুলো কেনা বন্ধ করার জন্য আমেরিকানদের সতর্ক করেছিলেন সার্জন জেনারেল জেরোম অ্যাডামস। এর দ্বারা মাস্ক ও ল্যাটেক্স গ্লাবস ব্যবহার ও ছুড়ে ফেলা সামান্য কমেছিল।

বিভিন্ন রাস্তা, শপিং মল, পার্কিং স্থান, সমুদ্র উপকূলে মাস্ক ও গ্লাভস ফেলে রাখার ছবি পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

মহামারীর সময় ব্যবহৃত মাস্ক এবং গ্লোভস ফেলে দেওয়ায় কেবল সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে তা নয় বরং এমন অনেক উপকরণ আছে যেগুলো পুনর্ব্যবহার করা যায় না এবং যা জৈব-সংযোজনযোগ্য নয়। সর্জিক্যাল মাস্কগুলো পলিপ্রোপিলিনের মতো প্লাস্টিক সংযুক্ত সেলাই ছাড়া ফেব্রিকস দিয়ে তৈরি করা হয়।

এনওএএ-এর মতে, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের সর্বনাশ করে এসব প্লাস্টিক। প্লাস্টিক যখন পানিতে ভাসে তখন এটি ভেঙ্গে ভেঙ্গে ছোট টুকরো টুকরো হয়ে যায়, যাকে মাইক্রো প্লাস্টিক বলে।

সমুদ্রের ভেতর এসব ছোট প্লাস্টিক টুকরা সামুদ্রিক মাছের স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে। অন্তত ৬০০ প্রজাতির বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এসব দূষণের কারণে হুমকির মধ্যে রয়েছে। 

আরও পড়ুন: করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পর আর আক্রান্ত হবে না’ এমন প্রমাণ নেই: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এসব প্লাস্টিকের কারণে মানুষও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ প্লাস্টিকগুলো সামুদ্রিক খাদ্যতালিকায় ঢুকে পড়ে এবং বিশ্বের প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ তাদের প্রোটিনের প্রাথমিক উৎস হিসেবে সামুদ্রিক মাছের উপর নির্ভর করে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট।


ইত্তেফাক/আরআই