বাংলাদেশ পুলিশকে স্যালুট

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ১৭:১০

ঢাকা মেডিক্যাল বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে প্রতি বছর লন্ডন থেকে ডা. ব্রায়ান সমারলেড নামক একজন প্লাস্টিক সার্জন আসেন বিনামুল্যে ঠোট কাটা, তালু কাটা রোগিদের  চিকিৎসা দিতে। প্রথিতযশা এই  সার্জন প্লাস্টিক সার্জারি টেক্সট বুকের এডিটর, তার নামে একটি  সুচার মেথডের নামকরণ আছে।

বছরের যে সময়টাতে তিনি আসেন বার্ণ ইউনিটে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়, সারাদেশ থেকে রোগী আসেন। রোগী বাছাই, প্রস্তুতি, অপারেশন নিয়ে ডাক্তাররা দৌড়ের উপর থাকেন। রোগীর সেবায় অন্তপ্রাণ এক সার্জন। এক যুগের ও অধিক সময় তিনি নিয়মিতভাবে এই কাজে বাংলাদেশে আসেন। ড.ব্রায়ান একদিন রোগীদেখা শেষে আমাদের এক প্লাস্টিক সার্জনকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা আমি এত বছর যাবৎ এত রোগীর অপারেশন করলাম, তোমাদের দেশের কোনো রোগী তো কোনোদিন আমাকে ধন্যবাদ দিল না, কারণটা কি বল তো? বাকরুদ্ধ নবীন প্লাস্টিক সার্জনের নীরব থাকা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। কি উত্তর দিতে পারতেন তিনি!

একইভাবে বাংলাদেশের সাংবাদিক, ডাক্তার আর পুলিশের কোনো কাজের স্বীকৃতি মেলে না। অথচ এই দুর্যোগে সবচেয়ে 'পর' পেশার মানুষগুলিই আপন মানুষের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে।

কোনো কাজের সমালোচনা করলে সেই কাজের সাফল্যের স্বীকৃতি ও দিতে হয়। বরং দ্বিতীয় টাই সহজতর। একটিমাত্র শব্দ ধন্যবাদের মাধ্যমেই অনেক বড় উপকারের স্বীকৃতি দেয়া যায়।

অনেক সমালোচনা, কটূক্তি শুনে পুলিশের কান ঝাঁজাল হয়ে গেছে। সারাক্ষণ মারামারি, হাঙ্গামা, খুন, লাশ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে, মর্গ-হাসপাতাল-আদালতে দৌড়াতে দৌড়াতে পুলিশের মেজাজ থাকে সপ্তমে। তখন একটা ভালো জিনিসকেও আর ভালো লাগে না। বাংলাদেশ পুলিশের মতো এত চাপ নিয়ে পৃথিবীতে আর কোনো পুলিশ কাজ করে কিনা জানা নেই। ইতোমধ্যে সাত শতাধিক পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গিয়েছেন পাঁচ জন সদস্য।

এবার তো বিশ্বাস করুন এই পেশার মানুষগুলি নির্ঘুম পাহারায় থেকে আপনার আরামের ঘুম নিশ্চিত করেন। চলুন একটা ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য না করি।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক 
বার্ণ এন্ডপ্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন