মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনীমণ্ডলে পদ্মা সেতুর রেলওয়ে প্রকল্পে শ্রমিকদের ক্যাম্পে গার্ডের ছুড়া গুলিতে ৮ শ্রমিক আহত হয়েছে। বুধবার রাতে এই ঘটনায় জখম শ্রমিকদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পদ্মা ব্রিজ রেল লিংক প্রজেক্টের (পিবিআরএলপি) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন এ চৌধুরী জানান, চীনা ঠিকাদার ‘সিআরইসি’র অধীনে ক্যাম্পটিতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষের এক পর্যায়ে ঠিকাদারের গার্ড গুলি ছুড়ে। এতে ৮ শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরে পাশের ক্যাম্প থেকে সেনা সদস্য এবং স্থানীয় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পিডি আরও জানান, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ. মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। বিষয়টি নিয়ে সচিব এবং পিডি’র সাথে কথা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে বৃহস্পতিবার প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে আসবেন।
প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা আরেকজন জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের (সিআরইসি) অধীনে ক্যাম্পটিতে ২০০-২৫০ শ্রমিক অবস্থান করছিল। সেখানে তাদের বেতন ভাতার পরিশোধের পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ছিল। কিন্তু যথাযথভাবে তাদের পাওনা পরিশোধ না করার কারণে এই অসন্তোষ দেখা দেয়। এটি চীনা ঠিকাদারে ম্যানেজম্যান্ট ব্যর্থতা। এজন্য তাদের নোটিশ করা হবে। প্রকল্প পরিচালক জানান, আহত শ্রমিকদের পায়ে গুলি লেগেছে। সকলেই শঙ্কামুক্ত।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহ আলম বুধবার রাত ১১ টায় জানান, এ পর্যন্ত আহতাবস্থায় ৮ জনকে ষোলঘর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। তবে এদের কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়। এদের গায়ে স্প্রিন্টার বা ছিটা গুলির আঘাত রয়েছে। কারো কারো গায়ে রড দিয়ে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, রাতে শ্রমিকেরা তাঁদের দাবি দাওয়া নিয়ে ক্যাম্প থেকে পাশে পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১ এ যেতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাতে বাঁধা দেয় ও শ্রমিকদের উপর গুলি চালায়। এতে আটজন শ্রমিক আহত হয়। ঠিকাদারের লোকজন রড দিয়েও পেটায়।
এই শ্রমিক আরও জানান, চুক্তি ছিল ঠিকাদার থাকা খাওয়া বাদে প্রত্যেক শ্রমিককে মজুরী বাবদ প্রতিদিন ৩শ’ টাকা নগদ দিবে। কিন্তু গত ২০ এপ্রিলের পর থেকে শ্রমিকদের কোনো টাকা দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই শ্রমিক দাবী করেন- এর আগে থেকেই শ্রমিকদের টাকা-পয়সা ও থাকা খাওয়া নিয়ে ঝামেলা করে আসছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ।
ইত্তেফাক/এসআই
